সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে পোপের শান্তিপূর্ণ অবস্থান এবং এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু মন্তব্য ভ্যাটিকানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে অস্বস্তি বাড়িয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরের অংশ হিসেবে ভ্যাটিকানের পররাষ্ট্র সচিব কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিনের সঙ্গেও বৈঠক করবেন রুবিও। ভ্যাটিকানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রায়ান বার্চ জানিয়েছেন, আলোচনাটি খোলামেলা ও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
পারোলিন সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকের অনুরোধ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই এসেছে এবং ভ্যাটিকান সংলাপের মাধ্যমে বিষয়গুলো শুনতে আগ্রহী।
বিশ্লেষকদের মতে, একসময় প্রথম মার্কিন পোপ নির্বাচিত হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মতপার্থক্যের কারণে দুই পক্ষের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। বিশেষ করে যুদ্ধ, পারমাণবিক অস্ত্র এবং অভিবাসন নীতির মতো বিষয়গুলোতে পোপ লিওর অবস্থান মার্কিন প্রশাসনের কিছু নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে।
গত মাসে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোপকে নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন। এর আগে পোপ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আহ্বান জানান এবং ইরানের সভ্যতা ধ্বংসের হুমকিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে রুবিও বলেছেন, ভ্যাটিকানের সঙ্গে আলোচনার জন্য তার সফর আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে বৈঠকটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, ধর্মীয় স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বৈশ্বিক সংঘাতসহ নানা বিষয় আলোচনায় স্থান পাবে।
ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ল্যাটিন আমেরিকা, কিউবা ও লেবাননের পরিস্থিতিসহ একাধিক আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিউবা প্রসঙ্গে ভ্যাটিকানের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ভূমিকার বিষয়টিও আলোচনায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পোপ লিও দীর্ঘদিন পেরুতে মিশনারি হিসেবে কাজ করেছেন এবং দেশটির নাগরিকত্বও অর্জন করেছেন। ফলে ল্যাটিন আমেরিকার রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
যদিও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছে, তবুও ট্রাম্প সম্প্রতি আবারও পোপের সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে পোপ লিও বলেছেন, ক্যাথলিক চার্চ সবসময় শান্তি ও মানবতার পক্ষে অবস্থান নেয় এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিরোধিতা করে আসছে।
ভ্যাটিকানের পররাষ্ট্র সচিব পারোলিনও পোপের সমালোচনাকে অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করে বলেন, পোপ কেবল তার নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করছেন।