প্রার্থীরা সেখানে তাদের ইশতেহার তুলে ধরবেন। সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলে তারা কী করবেন এবং কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেবেন, তা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করবেন। একই সঙ্গে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও পাল্টা প্রশ্নের জবাবও দেবেন তারা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় বুধবার (১৩ মে) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে দুই প্রার্থী নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবেন। দুটি সেশনে এই কার্যক্রম চলবে। সকালের সেশনে সাইপ্রাসের প্রার্থী এবং বিকেলে বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তার প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ভোটের আগে নিউইয়র্কের এই প্রেজেন্টেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে জাতিসংঘের সব সদস্যরাষ্ট্র উপস্থিত থাকবে। প্রার্থীরা শুরুতে বক্তব্য দেবেন এবং পরে প্রশ্ন-উত্তর পর্ব হবে। সাধারণত প্রার্থীরা সভাপতি হলে সাধারণ পরিষদের জন্য কী করবেন, তাদের অগ্রাধিকার কী হবে— সেসব বিষয় জানতে চাওয়া হয়। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি), বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্য সংকট (ইসরায়েল-ফিলিস্তিন), ইউক্রেন যুদ্ধসহ চলমান ইস্যুগুলো আলোচনায় আসবে। ভবিষ্যতে নতুন কোনো সংকট তৈরি হলে সাধারণ পরিষদের সভাপতির ভূমিকা কী হবে, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা তা-ও জানতে চাইতে পারেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্র নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ গঠিত। জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে পূর্ণাঙ্গ বহুপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সুচিন্তিত মতামত প্রদান ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশ্ব সংস্থাটির প্রতিনিধিত্বশীল অঙ্গ হিসেবে সাধারণ পরিষদ কাজ করে থাকে।
বাংলাদেশি প্রার্থী নির্বাচিত হলে জাতিসংঘে আমাদের অবস্থান আরও জোরদার হবে এবং এটি হবে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন। বাংলাদেশ খুব কম সময়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে এবং এখনও যে সময় আছে, তাতে আরও প্রচারণার সুযোগ রয়েছে। আমরা আশাবাদীপররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা
জানা গেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের প্রেজেন্টেশনের সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে কর্মরত কূটনীতিকরা উপস্থিত থাকবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশি প্রার্থী নির্বাচিত হলে জাতিসংঘে আমাদের অবস্থান আরও জোরদার হবে এবং এটি হবে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন। বাংলাদেশ খুব কম সময়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে এবং এখনও যে সময় আছে, তাতে আরও প্রচারণার সুযোগ রয়েছে। আমরা আশাবাদী।
এর আগে, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২০ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এই পদে নির্বাচনের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ২০২৬ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে বাংলাদেশের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি জাতিসংঘকে জানানো হয়।
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির জন্য মনোনীত করা হয়। তবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস ছাড়াও ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি থাকায় ঢাকা কিছুটা ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করে।
গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। এরপর বাংলাদেশের প্রার্থী পরিবর্তন করে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে মনোনীত করা হয়, বাদ পড়েন তৌহিদ হোসেন।
ইতোমধ্যে ফিলিস্তিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ এখন খলিলুর রহমানের পক্ষে জোর প্রচারণা চালাচ্ছে। এই প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ সফর করেছেন।