সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক বলেন, দেশের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের সকলেরই কিছু না কিছু ধারণা আছে। বিশেষ করে বিগত সময়ে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের মধ্যে সবসময় উৎকন্ঠা ছিল। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের পরে সেই বিরূপ পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া সম্ভব হয়েছে। তারপরও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যদ্রব্য চড়ামূল্যে বিক্রি করার চেষ্টা করেন, বিশেষ করে পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে এই অসৎ কাজটি করতে গিয়ে তারা বাজার অশান্ত করে তোলেন। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার জনস্বার্থে এ সকল অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ক্যাব-খুলনার সহ-সভাপতি এ্যাড. কুদরত-ই-খুদা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মূখ্য আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন ক্যাব-কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাবেক সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ: ইফতিখার ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-খুলনার উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিম। খোলা ভোজ্যতেল বিক্রয় বন্ধের লক্ষ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের বাজার মনিটরিং-এর ভূমিকা বিষয়ে আলোকপাত করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এন্ড রিচার্স ইনস্টিটিউট-এর এলএসএফএফ কর্মসূচির প্রোগ্রাম অফিসার ডা. আলিভা হক।
সভায় জানানো হয়, কেমিকেল সংরক্ষণ ও পরিবহণের জন্য তৈরী ড্রামগুলিতে খোলা ভোজ্যতেল পরিবহণ ও বিক্রয় জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ কারণে সরকার খোলা তেল বিক্রয় ও ভোজ্য তেল পরিবহণের কাজে এ ধরণের ড্রামের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া ড্রামে বাজারজাতকৃত পণ্যে প্রস্তুতকারীর পরিচয় ও অইন মোতাবেক প্রয়োজনীয় তথ্য এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিমাণমত ভিটামিন ‘এ’ অনুপস্থিত থাকে। খোলা ভোজ্যতেল ভোক্তার অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে আরো জানানো হয়, প্যাকেজিং ভোজ্যতেল তুলনামূলক কম ক্ষতিকর এবং বোতলে পণ্য প্রস্তুতকারীর পরিচয় লেখা থাকে বিধায় তাদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়। এছাড়া আইন মোতাবেক সকল তথ্য ও নির্ধারিত মাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যায়। সুতরাং সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভিটামিনসমৃদ্ধ নিরাপদ ভোজ্যতেল গ্রহণ ও অনিরাপদ ভোজ্যতেল বর্জনের পরামর্শ দেয়া হয়। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সভায় সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানানো হয়।
সভায় কেসিসি প্রশাসক আরো বলেন, ক্যাব ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূত্রপাত করে এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সরকারের দেয়া দায়িত্ব পালন করে। উভয় সংস্থা জনগণের স্বার্থের পক্ষে কাজ করে থাকে বিধায় জনগণেরও উচিৎ তাদের পাশে দাঁড়ানো। খোলা খাবার বর্জনের জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন ক্যাব-খুলনার সাধারণ সম্পাদক এম নাজমুল আজম ডেভিড। অন্যান্যের মধ্যে সরকারি এমএম সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মো: মনিরুল ইসলাম সরদার, বিএসটিআই-খুলনার উপপরিচালক এবিএম রইসুল আলম, আযম খান সরকারি কমার্স কলেজের শিক্ষক আবু রায়হান, লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো: বাদশা খান, বিকে ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুল আহাদ, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ফিল্ড অফিসার আব্দুর রাজ্জাক, সমন্বিত নারী অধিকার সুরক্ষা ফোরামের সমন্বয়কারী এ্যাড. তসলিমা খাতুন ছন্দা, নিরালা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি শেখ মাহবুবুর রহমান, খুলনা বাজার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক এম হাদীউজ্জামানসহ আইনজীবী, ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, খাদ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীগণ সভায় অংশগ্রহণ করেন।