মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশির পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে তাদের বাড়িতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দুই পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং সমবেদনা জানান।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার যেমন ঢাকাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তেমনি সব বিভাগে ব্যর্থ। সীমান্তে নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতেও ব্যর্থ হয়েছে। আমি সরকারকে বলবো, আপনি যদি সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী হন তাহলে সীমান্ত রক্ষা আপনার কর্তব্য। না হলে আপনি ভুয়া জাতীয়তাবাদী। যারা ভুয়া জাতীয়তাবাদী, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়।’
কসবা সীমান্তে হত্যার ঘটনায় বিজিবির দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সেখানে বাংলাদেশি মানুষদের মাদক চোরাকারবারি বলা হয়েছে। এটি ভারতীয় বয়ান। আমরা ভারতীয় বয়ান থেকে সরে আসার জন্য বলবো।
‘জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি সরকার গঠন করলে পুরো সীমান্ত এলাকায় খাল খনন করা হবে। যাতে ওপার থেকে মাদক পাচার না করতে পারে। যুব সমাজকে নষ্ট না করতে পারে। সরকারকে বলবো, ভারতের মধ্যে যে মাদকের ফ্যাক্টরিগুলো আছে সেগুলো ধ্বংস করুন।
‘এসব মাদক চোরাকারবারি ব্যবসার সঙ্গে অনেক সংসদ সদস্য জড়িত আছেন। তারা পার্লামেন্টে ঢোকার আগে মাদকাসক্ত কিনা চেক করা জরুরি। তারা ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ঢাকাতে কেন এত ইয়াবা পাওয়া যায়। পোলাপানের কাছে কেন গাঁজা পাওয়া যায়, ফেনসিডিল পাওয়া যায়? তাহলে ধরে নেওয়া যায়, সরকারের স্বরাষ্ট্র বিভাগ, এমপি, তারা এর সঙ্গে জড়িত। এজন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। কারণ তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সঙ্গে জড়িত আছেন। না হলে এত মাদক আসে কীভাবে, সেটা আমাদের প্রশ্ন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, সীমান্ত হত্যা যদি আরও বাড়ে, সরকার যদি কোনও উদ্যোগ নিতে না পারে, আমরা সীমান্তের দিকে লং মার্চ করবো ইনশাল্লাহ বাংলাদেশের সবাইকে নিয়ে। দেখবো আমাদের কে ঠেকায়। সরকারকে বলবো, এর আগে আপনারা উদ্যোগ গ্রহণ করুন। যাতে সীমান্ত হত্যা কমে আসতে পারে।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে সীমান্তে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। আজকে আমাকে তিন জায়গায় বাধা দেওয়া হয়েছে। চার জনের বেশি যেতে পারবো না। আমি তো বাংলাদেশেই দাঁড়িয়ে আছি। যেথায় ইচ্ছা আমি সেথায় যাবো, ঘুরবো। আপনি আমাকে বাধা দেওয়ার কে?’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ মাহদি, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, কেন্দ্রীয় সংগঠক মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, মোস্তাক আহমেদ শিশির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক আদেল ও স্বাস্থ্য উইং সমন্বয়ক ডাক্তার আশরাফ উদ্দিন।
এর আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সীমান্তে নিহত দুজনের কবর জিয়ারত করেন। তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এ সময় সীমান্ত এলাকায় জেলা পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।