আইপিএলে সর্বকনিষ্ঠ বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি করেছেন অস্ট্রেলিয়ান এই অলরাউন্ডার। ম্যাজিক ফিগার পূর্ণ করার পথে তার বয়স ছিল ২২ বছর ২৫৭ দিন। এর আগে আইপিএলে সর্বকনিষ্ঠ (২৩ বছর ১২২ দিন) বিদেশি হিসেবে সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল কুইন্টন ডি ককের (২০১৬ সালে)। যদিও পাঞ্জাব ৩৩ রানে হায়দরাবাদের কাছে ম্যাচটি হেরে যাওয়ায় কনলির ব্যক্তিগত রেকর্ডের উদযাপনটাও ঠিকঠাক করতে পারেননি।
এদিকে, হায়দরাবাদ নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষের সঙ্গে ও একটি ভেন্যুতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছে। এখন পর্যন্ত ঘরের মাঠ হায়দরাবাদে পাঞ্জাবের বিপক্ষে ১১ ম্যাচে মুখোমুখি হয়ে ১০টিতে জিতেছে তারা। এক ভেন্যুতে (ওয়ানখেড়ে) একই প্রতিপক্ষকে সবচেয়ে বেশিবার (১১) হারানোর নজির রয়েছে মুম্বাইয়ের, প্রতিপক্ষ কলকাতা। এ ছাড়া নির্দিষ্ট দলের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি ধারাবাহিক ম্যাচ জয়ের রেকর্ডটা এখন হায়দরাবাদের দখলে। ২০১৫-২৬ পর্যন্ত ঘরের মাঠে পাঞ্জাবকে তারা টানা ৯টিতে হারিয়েছে। চেন্নাই নিজেদের মাঠে টানা ৮ ম্যাচে হারিয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে।
গতকাল আগে ব্যাট করতে নামা হায়দরাবাদের হয়ে শুরুটা যথারীতি ঝড়ের বেগে করেছেন দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও অভিষেক শর্মা। স্রেফ ৩.২ ওভারেই তারা দলীয় হাফসেঞ্চুরি এনে দেন। ১৩ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৫ রান করে আউট হয়েছেন অভিষেক। হেডও থিতু হয়ে ইনিংস লম্বা করতে ব্যর্থ। ১৯ বলে ৩টি করে চার-ছক্কায় ৩৮ রান করেন। মাঝে ৮৮ রানের জুটিতে হায়দরাবাদকে বড় পুঁজির পথে টেনে নিয়েছেন ইশান কিষাণ ও হেইনরিখ ক্লাসেন। ৩২ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ইশান ৫৫, ৪৩ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ক্লাসেন ৬৯ এবং নীতিশ কুমার রেড্ডি ১৩ বলে ২৯ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন। ৪ উইকেটে পাঞ্জাব ২৩৫ রান তোলে।
এর আগে ২২০ রানের বেশি পুঁজি নিয়ে কখনো হারের রেকর্ড ছিল না হায়দাবাদের। যা এবার তারা ১১তম ম্যাচেও দেখাল। বড় লক্ষ্য তাড়ায় অবশ্য চলতি মৌসুমেই পাঞ্জাব বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ২৬৬ রান তাড়ায় সফল হয়ে টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ টার্গেট ছোঁয়ার রেকর্ড গড়ল শ্রেয়াস আইয়ারের দল। কিন্তু হায়দাবাদের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে মাত্র ৪ রানের মাথায় দুই তরুণ ওপেনার প্রভসিমরান সিং ও প্রিয়াংশ আর্যকে হারায় পাঞ্জাব। অধিনায়ক আইয়ারও ৫ রানের বেশি করতে পারেননি। ঝড়ের ইঙ্গিত (১৪ বলে ২৮ রান) দিয়ে দ্রুতই ফেরেন মার্কাস স্টয়নিস।
১১৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে পাঞ্জাবের হারটা যেন প্রায় অবধারিতই ছিল। তবুও আশার প্রদীপটা নিভু নিভু করে টিকিয়ে রাখার চেষ্টায় ছিলেন কুপার কনলি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৫৯ বলে ৭ চার ও ৮ ছক্কায় তিনি ১০৭ রান করেন। তিনি যোগ্য সঙ্গী না পাওয়ায় পাঞ্জাব ২০২ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে। ২২ বছর বয়সী হিসেবে পাঞ্জাবের হয়ে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৮টি ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড গড়লেন এই অজি ক্রিকেটার। চলতি মৌসুমে এটি তার তৃতীয় পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস। বিপরীতে হায়দরাবাদের হয়ে ২টি করে উইকেট শিকার করেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও শিভাঙ কুমার।