আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে করা এই প্রেডিকশনটি মাঠের পারফরম্যান্স বা অন্য কোনো কৌশলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা নয়। প্রতিষ্ঠানের কৌশলবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা সূচক—যেমন মাথাপিছু আয়, জনসংখ্যা, জলবায়ু, স্বাগতিক সুবিধা এবং ফিফা র্যাঙ্কিং—মিলিয়ে একটি মডেল তৈরি করেছেন। তার দাবি, এসব উপাদান পারফরম্যান্সের প্রায় ৫৫ শতাংশ ব্যাখ্যা করে, বাকি অংশ নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর।
চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই মডেল সাম্প্রতিক তিন বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নদের (জার্মানি, ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা) সঠিকভাবে পূর্বাভাস দিয়েছিল। যদিও নিজেই এই মডেলের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন ক্লেমেন্ট, তবু তার পূর্বাভাস নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই মডেল অনুযায়ী, এবারের ফাইনাল হবে নেদারল্যান্ডস ও পর্তুগালের মধ্যে। যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এর আগে কখনো দেখা যায়নি। স্পেন, ব্রাজিল কিংবা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মতো পরাশক্তিগুলোকে এবার শিরোপা দৌড়ের বাইরে রেখেছে এই পূর্বাভাস।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্যও সুখকর খবর নেই এই প্রেডিকশনে। গ্রুপপর্বে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের বিদায় নেওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে ধরা হয়েছে পর্তুগালকে। বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, আর্জেন্টিনা এখনো অনেকটাই নির্ভরশীল লিওনেল মেসির ওপর, অন্যদিকে পর্তুগালও ভরসা রাখে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ওপর, তবে দলগত গভীরতায় এগিয়ে থাকতে পারে পর্তুগাল।
আরও কিছু চমকপ্রদ সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। যেমন, ব্রাজিল নাকি শেষ ৩২-এ হেরে যেতে পারে জাপানের কাছে। যা হলে তা হবে বড় ধরনের অঘটন। একইভাবে স্পেন ও ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে বিদায় নেওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ফাইনালে ওঠার পথে নেদারল্যান্ডসকে মরক্কো, কানাডা, ফ্রান্স ও স্পেনের মতো দলকে হারাতে হবে বলে ধারণা করা হয়েছে। অন্যদিকে পর্তুগালের পথেও থাকবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মতো কঠিন প্রতিপক্ষ। ইতিহাসও কিছুটা নেদারল্যান্ডসের পক্ষেই কথা বলছে। তিনবার ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি তারা। তাই অনেকের চোখে ‘বিশ্বকাপ না জেতা সেরা দল’ হিসেবেই পরিচিত ডাচরা। যদিও বাজির বাজারে তাদের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশ ধরা হয়েছে, তবুও এই মডেল বড় ধরনের অঘটনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।