আরেক হাদিসে আবু জুহাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুল (সা.) উল্কি অঙ্কণকারিনী, উল্কি গ্রহণকারিনী, সুদগ্রহীতা ও সুদদাতার ওপর অভিসম্পাত করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩৪৭)
হাদিসের আলোকে শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা হারাম ও কবিরা গুনাহ। এছাড়াও ট্যাটু আঁকার কারণে যে আবরণ সৃষ্টি হয়, তা সাধারণত অজু-গোসলে শরীরে পানি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তাই ট্যাটুর কারণে শরীরে পানি পৌঁছাতে না পারলে অজু-গোসল শুদ্ধ হবে না। ফলে যত দিন ট্যাটু থাকবে, তত দিন অজু-গোসল আদায় হবে না। আর যদি পানি পৌঁছাতে কোনো সমস্যা না হয় তাহলে অজু গোসল হবে। তবে ট্যাটুর কারণে সে অভিশপ্ত হবে।
হজরত সাঈদ বিন আবুল হাসান বলেন, এক ব্যক্তি হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কাছে এসে বলল, আমি চিত্রকর। এবং চিত্র অংকন করি। এতএব এ সম্পর্কে আমাকে শরীয়তের বিধান বলে দিন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আমার কাছে আস। সে ব্যক্তি তার কাছে গেল। তিনি পুনরায় বললেন, আমার কাছে আস। সে ব্যক্তি তার এত কাছে গেল যে, ইবনে আব্বাস (রা.) তার হাত ওই ব্যক্তির মাথার উপর রাখলেন, এবং বললেন, আমি তোমাকে এ সম্পর্কে এমন একটি হাদীস শুনাচ্ছি, যা আমি রাসুল (সা.)- এর কাছে শুনেছি। আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে—
সকল চিত্রকরই জাহান্নামে যাবে। আর প্রত্যেক চিত্রের পরিবর্তে জীবিত এক ব্যক্তিকে বানানো হবে, যা জাহান্নামে তাকে শাস্তি দেবে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, যদি তোমাকে এমন করতেই হয়, তাহলে গাছ-পালা বা এমন বস্তুর ছবি আঁকো যা প্রাণী নয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৬৬২)
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম কাঠামো দিয়ে।’ (সুরা তিন, আয়াত : ০৪)। অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তারা আল্লাহর সৃষ্টির বিকৃতি করবেই।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১১৯)।
আল্লাহপাক আরও বলেন, ‘তারা আল্লাহকে পরিত্যাগ করে শুধু নারীর আরাধনা করে এবং শুধু অবাধ্য শয়তানের পূজা করে। যার প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। শয়তান বলল, আমি অবশ্যই আপনার বান্দাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে অবলম্বন করব। তাদের পথভ্রষ্ট করব, তাদের আশ্বাস দেব; তাদের পশুদের কর্ণ ছেদন করতে বলব এবং তাদের আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তন করতে আদেশ দেব। যে কেউ আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১১৭-১১৯)।