তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ খাতে সৌদি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। এসময় বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমান সরকার সৌদি আরবের সঙ্গে একটি কৌশলগত, বহুমাত্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়।
সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এল-খেরেইজি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সৌদি আরব আন্তরিকভাবে আগ্রহী। তিনি বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সৌদি সরকারের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এছাড়া সৌদি আরবের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও তুলে ধরেন সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, সি-ফুড, ট্রপিক্যাল ফুড, কৃষিভিত্তিক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ আরও বিভিন্নখাতে বিনিয়োগে আগ্রহী।
বৈঠকের শেষে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফরের আশা প্রকাশ করেন।
সৌদি প্রতিনিধি দলে ছিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুলাইমান বিন আবদুলআজিজ আল-ইয়াহইয়া, কনস্যুলার বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আল-শাম্মারি, মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ইসা, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন আবিয়াহ এবং দেশটির পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।