বক্তব্যের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান নবনির্বাচিত স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট কায়সার কামালকে অভিনন্দন জানান। তিনি স্পিকারের দলীয় পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আপনি এখন কোনো দলের নন, আপনি ১৬ কোটি মানুষের অভিভাবক। আমরা আশা করি আপনার কাছে সরকারি ও বিরোধী দল সমান গুরুত্ব পাবে।
বিগত ৫৫ বছরের সংসদীয় রাজনীতির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতি খুব কম সময়ই কার্যকর ছিল। বেশিরভাগ সময় ফ্যাসিজমের কবলে পড়ে সংসদ ছিল অকার্যকর ও ডামি। অতীতে যারা এই অভিভাবকত্বের চেয়ারে ছিলেন, তারা অনেকেই গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের ওপর সুবিচার করতে পারেননি।
সংসদে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক তরুণ সদস্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি বয়সে বেশি হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে নতুন, তাই আমিও তরুণদের একজন। আমরা চাই প্রবীণ ও অভিজ্ঞদের কাছ থেকে ভালো কিছু শিখতে। অতীতে সংসদে জনকল্যাণের চেয়ে মানুষের চরিত্র হননে বেশি সময় ব্যয় করা হয়েছে। আমি অনুরোধ করব, আপনার নেতৃত্বে এই মন্দ নজিরের অবসান ঘটুক।
জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনাকে স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সংসদের কাছে জনগণের একটাই প্রত্যাশা- ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আপনি যদি এই সংসদের ওপর ইনসাফ করেন, তবে ১৮ কোটি মানুষের ওপর ইনসাফ করা হবে। রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি অঙ্গের মধ্যে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, স্পিকারের নেতৃত্বে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সকল অসংগতি ও দুর্বৃত্তপনার অবসান ঘটবে। সংসদের গঠনমূলক প্রতিটি পদক্ষেপে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আমরা আপনার প্রতিটি সংগত বিষয়ে সমর্থন ও সহযোগিতা দেব।
বক্তব্যের শেষে তিনি স্পিকারের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে এই সংসদের সাফল্য প্রার্থনা করেন।