মন্ত্রী বলেন, শেথ হাসিনা সম্পর্কে আমার বলার একটাই কথা, আমরা অস্বীকার করতে পারি না যে উনি বাংলাদেশকে খুন করেননি, আমরা অস্বীকার করতে পারি না যে উনি খুন, গুম, গণহত্যার সাথে জড়িত ছিল না। সেই সব সত্যের মুখোমুখি যদি তিনি হতে চান , তাহলে অবশ্যই তিনি আসবেন।
আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘আগামী শৈলকুপা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রয়াত বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিচার বিভাগের সচ্ছতা ও বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আমার স্বপ্নের বিচার বিভাগ হলো, যেখানে একজন গবির, অসহায় মানুষ যাতে অনুভব করতে পারে, সৃষ্টিকর্তার পরেই যেখানে গেলে মানুষ তার আস্থা এবং বিশ্বাস রাখতে পারে, এমন একটি বিচার বিভাগ চাই আমি। সেই বিচার বিভাগে এখনো অনেক সমস্যা আছে।
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ নিয়ে আপনার কাছে সমস্যা একরকম, আমার কাছে সমস্যা আরেক রকম। কেউ বলবেন বিচার বিভাগ দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে, অনেকেই বলবেন টাউট বাটপারিতে ছেয়ে গেছে। অনেকেই বলবেন স্ট্রাকচার নাই। আর আমার কাছে বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় সংকট হলো, মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন বিচারকের অভাব। আমি যদি বিচারক কে পেশা হিসেবে বেছে নিই, তাহলে আমাকে ধরে নিতে হবে আমি আর দশটা চাকরির মতোই চাকরি করতে আসছি। বিচারকদের মনে রাখতে হবে, আমি এখানে এসেছি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য, বিধাতা প্রদত্ত সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করার জন্য।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যারা বলছেন উনি (শেখ হাসিনা) ভিডিও কনফারেন্স করবেন, কিন্তু উনি ভিডিও কনফারেন্সে আসেননি। একটি অডিও রেকর্ডেড কনফারেন্সে পাঠিয়েছেন। অনেকেই বলছে, এটা নাকি এআই জেনারেটেড। উনি ফিরে আসুক বা কনফারেন্সেই আসুক, উনি আমার কাছে ফেরারি আসামি। উনি একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। উনি আমার এখানে সাড়ে ৪ হাজার মানুষকে ক্রসফায়ারে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত আসামি। উনি আমার কাছে জুলাই বিপ্লবে ১৪শ’ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করার মামলার আসামি। উনি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
আইনমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে যারা বেশি কথা বলছেন, আপনাদের বলবো, একবার বুকের ওপর নিজের হাতটা রেখে বলুন তো, এতোগুলো অপরাধের পরেও উনি জনগণের কাছে, মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়েছে কিনা? একবারের জন্যও হাসিনার মনে হয়েছে কিনা, যে আমরা অপরাধ করেছি?
মতবিনিময় ও প্রয়াত বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণ সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান, শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমাজের নানা শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।