২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে মাদ্রিদে শুরু হয়েছে শাকিরার বহুল প্রতীক্ষিত ইউরোপীয় রেসিডেন্সি। গান ও নাচের পাশাপাশি এর অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে তার বৈচিত্র্যময় মঞ্চসাজ। একের পর এক পোশাকে কখনো শক্তির প্রতীক, কখনো নারীত্বের আবেদন, আবার কখনো ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন তুলে ধরছেন তিনি।
সম্প্রতি ডিজাইনার গৌরব গুপ্তার তৈরি একটি বিশেষ পোশাকে মঞ্চে হাজির হন শাকিরা। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী বুনন ও আধুনিক কৌচার নকশার সমন্বয়ে তৈরি পোশাকটির সবচেয়ে নজরকাড়া অংশ ছিল ভাস্কর্যধর্মী ব্রাসের ‘শি-উলফ’ ব্রেস্টপ্লেট। দেখতে অনেকটা বর্মের মতো এই ধাতব নকশার সঙ্গে ছিল ভারতের বেনারসের হাতে বোনা সিল্ক ব্রোকেডের স্কার্ট।
জানা যায়, পুরো পোশাকটি তৈরিতে লেগেছে ৫০০ ঘণ্টারও বেশি সময়। এতে কাজ করেছেন ১০ জনের বেশি কারিগর। শক্ত ধাতব কাঠামোর সঙ্গে নরম ও সমৃদ্ধ বেনারসি বুননের মেলবন্ধন পোশাকটিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা।
শাকিরার ফ্যাশন ও সংগীতের ভিজ্যুয়াল পরিচয়ের সঙ্গে ‘শি-উলফ’ প্রতীকটি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্ত। নতুন পোশাকে সেই প্রতীককে বর্মের আদলে তুলে ধরা হয়েছে।
অন্য এক মঞ্চসাজে আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন লুকে দেখা গেছে শাকিরাকে। ব্রাজিলীয় ডিজাইনার ডারিও মিটম্যানের নকশা করা উজ্জ্বল হলুদ পোশাকে ছিল ব্র্যালেটের আদলের টপ ও স্কার্ট। লম্বা ঝালর, সুতার ট্যাসেল এবং জ্যামিতিক সূচিকর্ম পোশাকটিতে যোগ করেছে বোহেমিয়ান আবহ।
খোলা ঢেউখেলানো চুল, হালকা গয়না ও উজ্জ্বল মেকআপে সাজটি সম্পূর্ণ করেন শাকিরা। বিশেষ করে নাচের সময় পোশাকের ঝালরগুলো তার পরিচিত বেলি ড্যান্সের মুভমেন্টের সঙ্গে দুলে মঞ্চে তৈরি করেছে আলাদা ছন্দ।
আরেকটি কাস্টম-মেড পোশাকে ছিল সোনালি এমব্রয়ডারি, সিকুইন ও মেটালিক কাজ। শরীরঘেঁষা নকশার সঙ্গে লম্বা সোনালি ফ্রিঞ্জ স্কার্টে ছিল অসংখ্য সুতা ও মেটালিক ঝালর। নাচের প্রতিটি ভঙ্গির সঙ্গে সেগুলো দুলে উঠে পোশাকটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
শাকিরার আরেকটি পোশাক তৈরিতে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি বিশেষ কারিগরি দল কাপড়, প্রিন্ট ও চমকি বসানোর কাজ হাতে সম্পন্ন করেছে। ‘শি-উলফ’ ভাবনার সঙ্গে মিল রেখে পোশাকের বিভিন্ন অংশে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নেকড়ের মোটিফ।
শাকিরার সাম্প্রতিক মঞ্চসাজে তাই শুধু গ্ল্যামার নয়, রয়েছে নানা প্রতীকের ব্যবহারও। ভারতীয় ঐতিহ্য, নেকড়ের শক্তির প্রতীক এবং নাচের ছন্দ—সবকিছুকে পোশাকের নকশায় একসঙ্গে তুলে ধরেই মঞ্চে নিজের আলাদা উপস্থিতি তৈরি করছেন এই পপ তারকা।