বলিউডের অন্যতম চর্চিত দম্পতি অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চন। কয়েক দশক পার হলেও তাদের প্রেম ও বিয়ের গল্প আজও দর্শকদের সমানভাবে আকর্ষণ করে। সাধারণত বিয়ের কয়েক মাস আগে থেকেই দুই পরিবারে নানা আয়োজন ও পরিকল্পনার ধুম পড়ে যায়। তবে এই তারকা দম্পতির বিয়ের গল্পটি ছিল একেবারেই ভিন্ন এবং নাটকীয়।
অমিতাভ নাকি জয়ার বাড়িতে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনার প্রয়োজনই মনে করেননি! সম্প্রতি জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র (কেবিসি) মঞ্চে নিজেদের সেই হঠাৎ বিয়ের নেপথ্য গল্প শেয়ার করেছেন বিগ বি। অনুষ্ঠানে এক প্রতিযোগী অহেলি রায় অমিতাভকে প্রশ্ন করেন, বিয়ের আগে কীভাবে তিনি জয়ার পরিবারকে রাজি করিয়েছিলেন এবং কীভাবে হবু শাশুড়ির মন জয় করেছিলেন?
উত্তরে অমিতাভ বচ্চন হাসিমুখে জানান, জয়ার পরিবারের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক কথাবাতাই তিনি বলেননি। অমিতাভের ভাষ্য, ‘আমরা জয়ার পরিবারের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে কখনোই আলোচনা করিনি। একদিন হঠাৎ করেই আমি জয়াকে বলেছিলাম আমাদের এখন বিয়ে করে নেওয়া উচিত। জয়াও সাথে সাথে রাজি হয়ে যায়। এরপর আমরা দুজনে মিলে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিই, আর অন্য কারও সঙ্গে কোনো আলোচনার প্রয়োজন মনে করিনি।’
তবে অমিতাভ প্রস্তাব দেওয়ার পর জয়া নিজেই তার বাবা-মায়ের কাছে গিয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানান। সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে অমিতাভ বলেন, ‘জয়া তার বাবা-মায়ের কাছে গিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল। তবে আমি আজও জানি না জয়া সেদিন কী বলেছিল যে, তারা প্রথমে এই সম্পর্ক মেনে নিতে একদমই রাজি হননি! এরপর আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করি এবং ঠিক তার পরদিনই বিয়ের পিঁড়িতে বসে পড়ি।’
বর্তমান সময়ের দীর্ঘ ও জমকালো বিয়ের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে নিজের ভিন্ন ভাবনার কথা জানান এই প্রবীণ অভিনেতা। অমিতাভ মনে করেন, বিয়ের তারিখ নির্ধারণ, কেনাকাটা কিংবা ঘোরাঘুরির মতো দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতায় ব্যস্ত থাকার বিশেষ কোনো প্রয়োজন নেই। যদি দুটি মানুষ মন থেকে একে অপরকে আপন করে নেন, তবে তার চেয়ে বড় আর কিছু হতে পারে না।
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের ৩ জুন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চন। তাদের অভিনীত ব্যবসাসফল সিনেমা ‘জঞ্জির’-এর অভাবনীয় সাফল্যের পরপরই নিজেদের সম্পর্ককে পরিণয়ে রূপ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এই তারকা জুটি।