ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ভারতীয় সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (আই৪সি) চলতি বছর ‘মানি রেস্টোরেশন মডিউল’ (এমআরএম) চালু করেছে। সাইবার প্রতারণায় খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
তবে এমআরএমে আবেদন করলেই টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া অর্থ কোন ব্যাংক হিসাবে গেছে, প্রথমে সেটি শনাক্ত করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট হিসাবে থাকা অর্থ আটকে বা ফ্রিজ করা সম্ভব হলেই ফেরত পাওয়ার জন্য আবেদন করা যাবে।
যেভাবে আবেদন করতে হবে
সাইবার প্রতারণার শিকার হলে প্রথমে ১৯৩০ নম্বরে সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইনে ফোন করে অভিযোগ জানাতে হবে। পাশাপাশি ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালের মাধ্যমেও অভিযোগ করা যাবে।
অভিযোগ জানানোর পর প্রতারণার অর্থ শনাক্ত ও ফ্রিজ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থ ফ্রিজ করা সম্ভব হলে এমআরএম পোর্টালে গিয়ে ‘রেইজ রিফান্ড রিকোয়েস্ট’ অপশনে ক্লিক করে ফেরতের আবেদন করা যাবে।
আবেদনের সময় ১৪ সংখ্যার সাইবার অপরাধের অভিযোগ নম্বর দিতে হবে। এরপর ওটিপির মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা হবে। পরিচয় যাচাই শেষে যে ব্যাংক হিসাবে অর্থ ফেরত নেওয়া হবে, সেই হিসাবের প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে প্যান কার্ডের কপি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আদালতের আদেশ জমা দিতে হতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর ভুক্তভোগীকে একটি ১৪ সংখ্যার রিকোয়েস্ট আইডি বা ইউনিক রিকোয়েস্ট নম্বর (ইউআরএন) দেওয়া হবে। ওই নম্বর ব্যবহার করে আবেদনের অগ্রগতি জানা যাবে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে মিলবে অর্থ
কিছু ক্ষেত্রে পুলিশকে ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত অঙ্গীকারনামা বা ইনডেমনিটি বন্ড জমা দিতে হতে পারে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যাংক প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করবে।
ভারত সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সাইবার প্রতারণার পর দ্রুত অর্থ শনাক্ত ও আটকে রেখে ভুক্তভোগীদের অর্থ ফেরতের সুযোগ তৈরি করা।
তবে টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে প্রতারণার অর্থ শনাক্ত ও ফ্রিজ করা গেছে কি না এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপর।