শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে তিনজনের নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে।
তারা হলেন; দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
এর বাইরে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তিকেও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার প্রস্তাব আসতে পারে বলে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতাদের। ওই বৈঠকে শরিকদের মতামত নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি পদে জোটের প্রার্থী চূড়ান্ত হতে পারে।
জামায়াত ও জোটের নেতাদের মতে, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় বর্তমান সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিষয়টি নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২১১টি আসনে জয় পাওয়ায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এরপরও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়াকে গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে দেখছে জামায়াত। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলের মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।
দলীয় নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক নজির তৈরি করতে চায় জামায়াত।
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে সর্বশেষ বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার নজির রয়েছে। সে সময় আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থেকে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করেছিল। তিনি বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে ৮০ ভোটে পরাজিত হন।
এরপর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন। ফলে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন জোটের বৈঠকের পরই স্পষ্ট হতে পারে, রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াত ও তাদের শরিকদের পক্ষ থেকে শেষ পর্যন্ত কাকে প্রার্থী করা হচ্ছে।