বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে এ হুঁশিয়ারি দেন ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যরা।
ভুক্তভোগীদের একজন মামুন সিরাজুল হক। তিনি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে বিভিন্ন কারণে দেশের বিভিন্ন জেলা ও ইউনিট থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছি। মূলত ফেসবুকে মন্তব্য, ডোপ টেস্ট, চাকরির আগে বিয়ে, পারিবারিক অভিযোগসহ বিভিন্ন তুচ্ছ কারণে টার্গেট করে করে ১৫২২ জনের চাকরি কেড়ে নেয় আওয়ামী লীগ সরকার। চব্বিশের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে আমরা চাকরি পুনর্বহাল চেয়ে আন্দোলন করি। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তর বরাবর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন তখনকার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন। প্রজ্ঞাপনে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে সবাইকে চাকরিতে পুনর্বহাল করার জন্য আদেশ দেওয়া হয়। এরপরও টালবাহানা করছে পুলিশ সদর দপ্তর।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে অনুরোধ জানিয়ে ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যরা বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনায় আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমাদের পুনর্বহাল করা হোক। আমাদের এভাবে আর রাস্তায় ফেলে দেবেন না। আমরা দুই বছর ধরে রাস্তায় পড়ে আছি। এই দাবি-দাওয়া নিয়ে যখনই রাস্তায় নামি, তখনই আমাদের ওপর আরও অন্যায় চাপিয়ে দেওয়া হয়। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের কয়েকজন সদস্যকে জেল খাটানো হয়েছে। ’
চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যরা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার আদেশের পর পুলিশ সদর দপ্তরে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি একটি সুপারিশমালাও দেয়। সুপারিশে উল্লেখ করা হয়, বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তিতে যথেষ্ট ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয়েছে। কিন্তু সেই ত্রুটি-বিচ্যুতি নিরসনে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মামুন সিরাজুল বলেন, ‘আমাদের মাঝপথে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ছেড়ে দেবেন না। আমাদের পারিবারিক জীবন, ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেবেন না। চাকরি চলে যাওয়ার পর প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ পাননি আমাদের অনেক সদস্য। অনেকে তামাদি হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি- আমরা আপনার সাক্ষাৎকার চাই। আপনি আমাদের কথাগুলো শুনুন। আমাদের অন্তত পাঁচ মিনিট সময় দিন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে রয়েছি। যদি দাবি না মানা হয়, তাহলে আমরণ কর্মসূচিতে যাবো। কারণ আমাদের আর কোনো গতি নেই।’