‘প্রতিটি সম্পর্কের গায়ে সাঁটানো থাকে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ’—কবির এই চরণ সম্পর্কের এক কঠিন বাস্তবতাকে মনে করিয়ে দেয়। তবে কোনো অভিজ্ঞতাই চূড়ান্ত নয়। ইচ্ছা আর সামান্য সচেতনতা থাকলে ভাঙনের মুখ থেকেও অনেক সম্পর্ক ফিরিয়ে আনা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন জীবনে আমাদের অজান্তে করা কিছু ভুল সম্পর্কের ভিত দুর্বল করে দেয়।
যে চারটি ভুলের কারণে একটু একটু করে ফিকে হয়ে যেতে পারে আপনার প্রিয় সম্পর্কটি, আসুন তা জেনে নেওয়া যাক।
‘আমি ঠিক আছি’ বলা বন্ধ করুন
মনোযোগ বা সহানুভূতি পাওয়ার আশায় কিংবা ক্ষোভ থেকে সঙ্গীকে বারবার ‘আমি ঠিক আছি’ বলা অনেকেরই অভ্যাসে পরিণত হয়। তবে গবেষকদের মতে, এ ধরনের বাক্য সম্পর্কের ভেতরে জটিলতা তৈরি করে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, অন্তত ৩৯ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন নিজেদের সঙ্গীর কাছে এই বাক্যটি ব্যবহার করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনের এমন পরোক্ষ অসন্তোষ প্রকাশের ফলে সম্পর্কের পারস্পরিক যোগাযোগের মূল সেতুটিই ধীরে ধীরে ভেঙে যায়।
‘শান্তি’ বজায় রাখতে এড়িয়ে চলা
দেখা গেছে, প্রায় ২৮ শতাংশ মানুষ সম্পর্কের অহেতুক তর্ক বা ঝগড়া এড়াতে নীরব ভূমিকা পালন করেন। আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি ইতিবাচক মনে হলেও এটি সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। মনোবিদদের মতে, যুক্তিসংগত বিতর্ক বা কথা-কাটাকাটি অনেক সময় সম্পর্কের ভুল বোঝাবুঝি নিরসনে সাহায্য করে। তাই ক্ষোভ জমিয়ে না রেখে খোলামেলা আলোচনা করাই শ্রেয়।
মন দিয়ে সঙ্গীর কথা শুনুন
কথোপকথনের সময় কেবল নিজের যুক্তি উপস্থাপন করা বা নিজেকে সঠিক প্রমাণের চেষ্টা করা সম্পর্কের দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। মনোবিদরা বলছেন, সম্পর্কে ‘জিতে যাওয়ার’ মানসিকতা না রেখে পরস্পরকে বোঝার চেষ্টা করা উচিত। তা না হলে ভালোবাসার সম্পর্কটি একপর্যায়ে প্রতিযোগিতায় রূপ নিতে পারে।
ফোনের স্ক্রিনে বুঁদ থাকা পরিহার করুন
সমীক্ষায় উঠে এসেছে, ৩১ শতাংশ মানুষ সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলার সময়ও ফোনে স্ক্রোল করতে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ মনে হলেও পরবর্তীতে অভ্যাসে পরিণত হয়। এর ফলে অপর পাশের মানুষটির মনে অবহেলিত হওয়ার অনুভূতির সৃষ্টি হয়।