মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে আবারও শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এর আগের দিন সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর কিছু মেরামত কাজ করা হলেও নতুন করে আবার ক্ষয়ক্ষতি হয়। উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সূত্র জানায়, মঙ্গলবারের ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতে বিদ্যুতের তারের ওপর বিভিন্ন স্থানে শতাধিক গাছ ভেঙে পড়ে। উত্তর বাজারে কহুয়া নদীর সেতুর পাশে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যায়। আরও অন্তত দুটি স্থানে খুঁটি ভাঙার খবর পাওয়া গেছে।
রবিবারের ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে এবং ছিঁড়ে যায় তার। ওইদিন ২০টি খুঁটি ভেঙে পড়ে, ৮৭টি স্থানে তার ছিঁড়ে যায় এবং ৮টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়। এছাড়া ছয়টি ক্রসআর্ম ভেঙে যায় এবং শতাধিক গ্রাহকের মিটার খুলে পড়ে বলে বিদ্যুৎ অফিস জানিয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যা থেকে পৌরসভা, মির্জানগর, চিথলিয়া ও বক্সমাহমুদ ইউনিয়নে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলেও সোমবার রাত ৯টার পর কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। তবে মঙ্গলবার রাতে আবারও বজ্রপাত শুরু হলে পুরো উপজেলা ‘ব্ল্যাকআউট’-এর কবলে পড়ে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে কয়েকটি ফিডারের মাধ্যমে বাজার ও পৌরসভার কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ এলেও অধিকাংশ এলাকা অন্ধকারেই রয়ে যায়।
পৌরসভার দুবলাচাঁদ গ্রামের বাসিন্দা অনিক মজুমদার বলেন, গত তিন দিন ধরে দুবলাচাঁদ, বিলোনিয়া, বাউরখুমা ও বাউরপাথর গ্রামে বিদ্যুৎ নেই। এতে ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ পড়ে আছে।কোলাপাড়ার রীনা চৌধুরী জানান, বারবার বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিয়েও কোন কিছু হচ্ছে না,ফ্রিজের খাবার নষ্ট, অন্ধকারে অসুস্থ রোগী নিয়ে কষ্টে আছি।
এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে। পরশুরাম কবি শামসুন্নাহার মাহমুদ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী নুরজাহান আক্তার জানায়, ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার সময় ঝড় শুরু হলে বিদ্যুৎ চলে যায়, পরে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে।
পরশুরাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুঃ সুহেল আখতার বলেন, রবিবারের ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর প্রায় ৭৫ শতাংশ মেরামত করা হয়েছিল। মঙ্গলবার নতুন করে ঝড়-বজ্রপাত না হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসত। তিনি দাবি করেন, পল্লী বিদ্যুতের জনবল বিরামহীনভাবে কাজ করছে।
তবে টানা তিন দিনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি স্বাভাবিক হলেও দ্রুত পুনর্বাসনে সমন্বয়ের ঘাটতি ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অভাব বিদ্যুৎ বিভাগের দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।