ঐতিহ্যের আড়ালে আর্থিক অন্ধকার
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৮৭৬ সালে ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত হয় শেরপুর পৌরসভা। এটি বগুড়া সদর পৌরসভার চেয়েও পুরোনো। একসময় যা ছিল গর্বের বিষয়, এখন সেটিই যেন ব্যঙ্গাত্মক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—ঐতিহ্য ছাড়া এই পৌরসভার অর্জনের তালিকা প্রায় শূন্য।
পৌরসভাটির নিজস্ব আয় রয়েছে—হাট-বাজারসহ বিভিন্ন খাত থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আসে। কিন্তু সেই অর্থের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছে, একটি প্রভাবশালী চক্র কাগজে-কলমে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করছে।
বেতন নয়, মিলছে কেবল আশ্বাস
অভিযোগ অনুযায়ী, মাঝে মাঝে এক-দুই মাসের বেতন দিয়ে কর্মচারীদের সাময়িকভাবে শান্ত রাখা হয়। কিন্তু বকেয়া মাসের হিসাব ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। বর্তমানে ৩০ থেকে ৫৬ মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া রয়েছে অনেকের।
নিম্ন আয়ের এসব কর্মচারীদের জন্য এটি শুধু আর্থিক সংকট নয়, এক ধরনের সামাজিক বিপর্যয়ও বটে।
সংসার চালাতে হিমশিম
ভুক্তভোগীরা জানান, সামান্য বেতনের ওপর নির্ভর করেই তাদের সংসার চলে। কিন্তু বছরের পর বছর বেতন না পাওয়ায় তারা এখন ঋণের বোঝায় জর্জরিত। অনেকেই ধার-কর্জ করে দিন পার করছেন।
পৌরসভার টিকাদানকারী আফরোজা বেগম বলেন, প্রায় ৫০ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। বাসা ভাড়া, সন্তানের লেখাপড়ার খরচ—সব মিলিয়ে দিশেহারা অবস্থা। সামনে কোরবানির ঈদ—কীভাবে সংসার চালাবেন, তা ভেবে দিশা পাচ্ছেন না তিনি।
কর্মবিরতিতে স্থবির সেবা
বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে কর্মবিরতি শুরু হওয়ায় পৌরসভার বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়েছে। নাগরিক সেবা থেকে শুরু করে পরিচ্ছন্নতা—সব ক্ষেত্রেই দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।
প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, তিনি সদ্য দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে বেতন বকেয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
প্রশ্ন রয়ে যায়
ঐতিহ্যের দেড়শ বছর পার করা একটি পৌরসভা—যেখানে নিজস্ব আয়ের উৎস রয়েছে, সেখানে কেন বছরের পর বছর কর্মচারীদের বেতন বকেয়া থাকবে? কেনই বা অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
শেরপুর পৌরসভার এই বাস্তবতা এখন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়—এটি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।