ভুক্তভোগীদের মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ছয়জন এবং সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের একজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন কেন্দ্রে গিয়ে প্রবেশপত্র না থাকায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তারা। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসন, জেলা শিক্ষা অফিস এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড যৌথভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। জরুরি ভিত্তিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ইস্যু করা হয়।
প্রবেশপত্র পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন—মো. হাসর, সম্রাট সরকার, তৌহিদুর রহমান তামিম, মইনুর ইসলাম, অমিত হাসান, সাব্বির হোসেন এবং সুমাইয়া আক্তার।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা নির্ধারিত সময়েই কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের কাছে ফরম পূরণের টাকা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই অর্থ শিক্ষা বোর্ডে সময়মতো জমা না দেওয়ায় তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়নি এবং প্রবেশপত্রও ইস্যু হয়নি। ফলে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হারাতে হয় তাদের।
তবে নতুন করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা গণমাধ্যম, জেলা প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শুক্রবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে রাতেই শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সরকারের দ্রুত উদ্যোগেই সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়েছে।
সরকারি এম এইচ কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব অধ্যাপক আবুল কালাম আসাদ জানান, মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ছয় শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে শনিবারের পরীক্ষায় চারজন অংশ নিয়েছেন। বাকি দুই শিক্ষার্থী ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
বগুড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যারা প্রতারণা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে মামলা করা হবে। পাশাপাশি প্রথম দিনের যে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষাটি তারা দিতে পারেনি, সেটি বিশেষ ব্যবস্থায় নেওয়ার জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড শিগগিরই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অবহেলার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। তবে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে অন্তত সাত শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা আপাতত কাটল।