এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামের মৌলিক নীতিমালা বোঝা জরুরি।
ঐতিহাসিকভাবে পহেলা বৈশাখের সূচনা মুঘল আমলে। সম্রাট আকবরের সময় কৃষকদের খাজনা আদায় সহজ করতে বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ‘হালখাতা’ ছিল নববর্ষের প্রধান আয়োজন, যা মূলত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের অংশ—পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলা।
ইসলামে আনন্দ-বিনোদন নিষিদ্ধ নয়; তবে তা হতে হবে শালীন ও সীমার মধ্যে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো—ইবাদত (ধর্মীয় কাজ) এবং আদত বা সংস্কৃতি (সামাজিক রীতি)। ইসলামে সংস্কৃতি সাধারণত বৈধ, যতক্ষণ তা শরিয়তবিরোধী না হয়।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে নববর্ষ উপলক্ষে কিছু বিষয় যেমন—পরিচ্ছন্নতা, নতুনভাবে শুরু করার মানসিকতা, আত্মীয়তার সম্পর্ক জোরদার করা বা ব্যবসায়িক হিসাব হালনাগাদ করা—এসব ইসলামে নিষিদ্ধ নয়; বরং ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে সমালোচকরা বলেন, বর্তমান সময়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের কিছু অংশ ইসলামের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠেছে। যেমন—অশালীনতা, অতিরিক্ত গান-বাজনা, নৃত্য, বা এমন কিছু প্রতীকী কার্যক্রম যা অন্য ধর্মীয় বিশ্বাসের অনুকরণ হিসেবে দেখা হয়।
একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো জাতির অনুকরণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” (সুনানে আবু দাউদ)
এ ছাড়া কিছু মানুষের মধ্যে এমন ধারণাও দেখা যায় যে, নতুন বছর নতুন কল্যাণ বয়ে আনে। ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী, কল্যাণ-অকল্যাণের একমাত্র নিয়ন্ত্রক আল্লাহ। কোরআনে বলা হয়েছে, “আল্লাহ যদি তোমার কোনো ক্ষতি করেন, তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই; আর যদি তিনি কল্যাণ করেন, তবে তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।” (সূরা আনআম: ১৭)
এই প্রেক্ষাপটে ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, কোনো সময় বা দিনকে নিজস্বভাবে শুভ বা অশুভ মনে করা সঠিক নয়। বরং একজন মুমিনের কাছে প্রতিটি দিনই মূল্যবান, যদি তা আল্লাহর আনুগত্যে ব্যয় করা হয়।
হজরত আলী (রা.)-এর একটি বক্তব্য এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক—“মুমিনের প্রতিটি দিনই নববর্ষ।” অর্থাৎ প্রতিদিনই আত্মসমালোচনা ও নতুনভাবে সৎ কাজের সূচনা করা উচিত।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পহেলা বৈশাখ নিজে কোনো ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি একটি সাংস্কৃতিক দিন। তবে এর উদযাপন পদ্ধতি যদি ইসলামের সীমারেখা অতিক্রম করে, তাহলে তা পরিহার করা উচিত—এমন মত অনেক আলেমের।
অতএব, ইসলামের দৃষ্টিতে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো—কীভাবে উদযাপন করা হচ্ছে, তা শরিয়তসম্মত কি না।