গত শনিবার (৪ এপ্রিল) পাকিস্তানের শিয়ালকোটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খাজা আসিফ দাবি করেন, ভারত ‘ভুয়া অভিযান’ চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন কিছু হলে পাকিস্তান জোরালো জবাব দেবে এবং বিষয়টি ‘কলকাতা পর্যন্ত’ গড়াতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তবে তার এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
এ মন্তব্য ঘিরে ভারতে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। এমনকি গতকাল (রোববার, ৫ এপ্রিল) পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে নির্বাচনি জনসভায় উপস্থিত থাকলেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এ প্রেক্ষাপটে আজ (সোমবার, ৬ এপ্রিল) নদিয়া জেলার নাকাশিপাড়ার বেথুয়াডহরীতে এক নির্বাচনি সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি মোদিকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনি বাংলাকে টার্গেট করেন, আর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যখন কলকাতাকে টার্গেট করার কথা বলে তখন আপনি চুপ করে থাকেন। আপনার লজ্জা করে না? আগে আপনি পদত্যাগ করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই। কিন্তু কেউ যদি কলকাতাকে টার্গেট করার কথা বলে, তখন প্রধানমন্ত্রী কেন কঠোর অবস্থান জানান না?’
এ ঘটনায় কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে ‘গোপন সমঝোতার’ অভিযোগও তোলেন মমতা। তার ভাষায়, ‘নির্বাচনের আগে কোনো ছক করা হচ্ছে কি না; সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।’
একই সমাবেশ থেকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও কেন্দ্রকে কড়া সমালোচনা করেন তিনি। দাবি করেন, বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেয়া হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক।
এর আগে, কোচবিহারের জনসভায় নরেন্দ্র মোদি অনুপ্রবেশ ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীরাই মমতা সরকারের ভোটব্যাংক। এর জবাবে মমতা বলেন, ‘সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রের, তাই অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ব্যর্থতার দায়ও তাদেরই।’
আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন উত্তপ্ত রাজনৈতিক বাক্যবিনিময়ে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন আরও সরগরম হয়ে উঠেছে।