শুক্রবার বিকালে যশোর মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) যশোরের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসন যশোর বিসিক উদ্যোক্তা মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে সরকার এবং বেসরকারি খাত যদি হাতে হাতে ধরে এগিয়ে যেতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। যশোরের নারীদের হাতের কাজের অতীত ঐতিহ্য রয়েছে। এখানে এক সময় সূচিশিল্পের সুনাম ছিল। সময়ের বিবর্তনে, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে মা বোনেরা তাল মেলাতে না পারায় পূর্বের অবস্থান থেকে কিছুটা পিছিয়ে গেছে। এখনো পর্যন্ত যশোরের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ঢাকার স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করিয়ে নিয়ে সেখানে বিভিন্ন বুটিক শপে বিক্রি করছে; কিন্তু আমাদের উদ্যোক্তারা সেই সুযোগ বেশি কাজে লাগাতে পারছেন না।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আমি বিসিক যশোরে গিয়েছিলাম। ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সড়কে নাজুক অবস্থার পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে শ্রমিকের কাজ করার দৃশ্য দেখেছি। আমার নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল, বিসিকের উন্নয়নে কাজ করা। বিসিক প্রতি বছর অগ্নিকাণ্ডে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এজন্য আমি অঙ্গীকার করেছিলাম, এখানে একটি ফায়ার ব্রিগেডে সাব-স্টেশন নির্মাণের । শপথ গ্রহণের পর প্রথম সপ্তাহে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিয়ে যশোর বিসিকে ফায়ার ব্রিগেডের নির্মাণ কাজ করতে সক্ষম হব।
উদ্যোক্তাদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে চান উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, যশোর বিসিকের সুনাম খুলনা বিভাগে কুষ্টিয়া ছাড়া অন্য কোনও বিসিকের নেই। এখানে বড় বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জ্বালানি খাতকে নিরাপদ করতে এই খাতে বৈচিত্র্য আনার কথা বলেন। এ জন্য বর্তমান সরকার রিনিউয়েবেল এনার্জিতে মনোনিবেশ করেছে। সে কারণে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য বর্তমান বাজেটে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। যাতে করে উদ্যোক্তা তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, অতীতে বিসিকের পাশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি আলোর মুখ দেখেনি। আমরা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলছি যাতে করে আবার প্রকল্প চালু করতে সক্ষম হই।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজন সরকার, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শান্তনু ইসলাম সুমিত, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান, সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান, বিসিক যশোরের উপ মহাব্যবস্থাপক এম এনাম আহমেদ, যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এ জেড এম সালেক, প্রেস ক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, নাসিব যশোরের সভাপতি সাকির আলী প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১০ দিনব্যাপী বিসিক উদ্যোক্তা মেলায় ৬০টি স্টল অংশ নিয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মেলা প্রাঙ্গণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।