বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার নিস্তব্ধ গ্রামাঞ্চল হঠাৎই তীব্র দুর্গন্ধে অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। সেই দুর্গন্ধই শেষ পর্যন্ত উন্মোচন করে এক শিহরণ জাগানো দৃশ্য—লোহাগাড়া নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের মূলবাড়ী গ্রাম এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের আশপাশে আগে কোনো অস্বাভাবিকতা চোখে পড়েনি। তবে হঠাৎ করে এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এক কৃষক বিষয়টি টের পেয়ে নদীর ধারে গিয়ে খোঁজ নিতেই চোখে পড়ে ভয়াবহ সেই দৃশ্য। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হন এবং দ্রুত পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটির অবস্থা অত্যন্ত করুণ। মাথা থেকে পেট পর্যন্ত অংশ প্রায় কঙ্কালে পরিণত হয়েছে, আর নিচের অংশ অর্ধগলিত অবস্থায় রয়েছে। শরীরের গঠন ও পরনের কাপড় দেখে প্রাথমিকভাবে এটি একজন নারীর মরদেহ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, “আমরা একটি অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছি। মরদেহের একটি অংশ কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা যাচাই করে পরিচয় নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে।
এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও শঙ্কা। এটি কি স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি কোনো অপরাধের শিকার হয়ে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে—তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। লোহাগাড়ার পানিতে ভেসে ওঠা এই অচেনা মুখ যেন শুধু একটি মরদেহ নয় এটি এক অজানা গল্পের ইঙ্গিত, যার উত্তর খুঁজছে পুলিশ, আর অপেক্ষায় আছে পুরো এলাকা।
জিএম মিজান
বগুড়া প্রতিনিধি
০১৭১৩৭২২৮০১