সকাল ১০টা থেকে একযোগে তিন স্থানে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মোকামতলা উপজেলার ‘সীমান্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন বিষয়ে জগন্নাথপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন বিষয়ে ভরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং শিবগঞ্জ উপজেলার ‘মীরবাড়ি’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন বিষয়ে বেতগাড়ি মীরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণ করা হয়।
গণশুনানিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। উপস্থিত জনসাধারণ ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে নিজেদের মতামত, প্রস্তাব ও স্থানীয় ইতিহাসভিত্তিক নামের সুপারিশ তুলে ধরেন। ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত কমিটির আহ্বায়কসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মোকামতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) জিয়াউর রহমান বলেন, “ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তারা কাজ করছে। গণশুনানিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া যৌক্তিক মতামত ও প্রস্তাব পর্যালোচনা করে নতুন নাম চূড়ান্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।”
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন বগুড়া জেলা প্রশাসনের এক প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি এবং নবঘোষিত মোকামতলা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রশাসনিক এলাকা পুনর্গঠন করা হয়। পরে ১৪ জুন নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম উল্লেখ করে গেজেট প্রকাশ করা হলে ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘মীরবাড়ি’ নাম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এরই প্রেক্ষিতে প্রশাসন জনমতকে গুরুত্ব দিয়ে মাঠপর্যায়ে গণশুনানির আয়োজন করেছে। এখন দেখার বিষয়, স্থানীয় মানুষের পছন্দ ও ইতিহাসের আলোকে শেষ পর্যন্ত কী নাম পায় নবগঠিত এই ইউনিয়নগুলো। কারণ একটি নামের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে একটি জনপদের পরিচয়, অতীত এবং ভবিষ্যতের গল্প।