এই ঐতিহাসিক হোয়াইটওয়াশের পর আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে দুই ধাপ এগিয়ে সাত নম্বরে উঠে এসেছে টাইগাররা। বর্তমানে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ৭৮। টেস্ট ইতিহাসে সচরাচর ৯ বা ১০ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের জন্য এটিই এ যাবৎকালের সেরা অবস্থান।
এদিকে, পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার পরও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এই জয়কে পেছনে ফেলে তিনি এখন থেকেই চোখ রাখছেন আগামী অস্ট্রেলিয়া সফরে। বিদেশের মাটিতেও সাফল্যের এই ধারা ধরে রাখাই এখন শান্তর মূল লক্ষ্য।
পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ জয়ের পর শান্ত সব কৃতিত্ব দিয়েছেন ক্রিকেটারদের। তিনি বলেন, ‘সব কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের, তারা দারুণ কঠোর পরিশ্রম করেছে। দল গঠনের জন্য আমরা কিছু পরিবর্তন এনেছি। বিশ্ব ক্রিকেটের দিকে তাকালে দেখবেন, শক্তিশালী দল গড়তে হলে কিছু পরিবর্তন আনতেই হয়। আশা করি, আমরা সামনের দিনগুলোতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবো।
অপরদিকে, সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। জয়ের জন্য শেষ দিনে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১২১ রান, আর বাংলাদেশের দরকার ছিল ৩ উইকেট। দিনের শুরুতে নাহিদ রানার বলে মোহাম্মদ রিজওয়ানের ক্যাচ স্লিপে মিস করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। জীবন পেয়ে সাজিদ খানকে সাথে নিয়ে অষ্টম উইকেটে ৫৪ রানের বিপজ্জনক জুটি গড়েন রিজওয়ান। অবশেষে ম্যাচের ৯৬তম ওভারে সাজিদ খানকে (২৮) স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানিয়ে ব্রেকথ্রু এনে দেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। এই উইকেটের মাধ্যমে টেস্টে নিজের ১৮তম ফাইফার পূর্ণ করেন তিনি। পরের ওভারেই পেসার শরীফুল ইসলাম প্রথম বলে আঘাত হানেন। সেঞ্চুরির দোড়গোড়ায় থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে (৯৪) গালিতে মিরাজের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। শেষ উইকেট হিসেবে খুররম শাহজাদকে তানজিদ হাসানের ক্যাচ বানিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে দেন তাইজুল। দ্বিতীয় ইনিংসে ১২০ রানে ৬ উইকেট নেন এই স্পিনার।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের ১২৬ রানের ওপর ভর করে ২৭৮ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে ২৩২ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। ৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৯০ রানের পাহাড় দাঁড় করায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩৩ বলে ১৩৭ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন মুশফিকুর রহিম। এই শতকের মাধ্যমে টেস্টে ১৪টি সেঞ্চুরি নিয়ে মুমিনুল হককে টপকে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বো”চ টেস্ট সেঞ্চুরির একক রেকর্ড গড়েন তিনি। একই সাথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন মুশফিক।