সম্প্রতি স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৮ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ রেফারি বলেন, মেসির সঙ্গে তার কথোপকথন ছিল গঠনমূলক এবং মাঠে এমন ঘটনা নিয়মিতই ঘটে।
পিনেইরো জানান, ম্যাচের এক পর্যায়ে তার রেফারিং দল প্রথমে আর্জেন্টিনার লিয়েন্দ্রো পারেদেসের চ্যালেঞ্জকে হলুদ কার্ডযোগ্য ফাউল হিসেবে বিবেচনা করেছিল। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোনো ফাউলই হয়নি। বরং সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এম্বোলো ইচ্ছাকৃতভাবে ফাউলের অভিনয় করেছিলেন। যেহেতু সেটি তার দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের পরিস্থিতি ছিল, তাই নিয়ম অনুযায়ী তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়। পিনেইরোর দাবি, এটি প্রথম হলুদ কার্ডের ঘটনাও হলেও একই সিদ্ধান্ত দেওয়া হতো।
মেসির সঙ্গে বাক্যবিনিময় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মেসি আমার সঙ্গে কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলছিল। অন্য খেলোয়াড়রাও কথা বলে। অধিনায়করা সাধারণত রেফারিদের সঙ্গে বেশি আলোচনা করেন এবং নতুন নিয়মেও সেই সুযোগ রয়েছে। তবে মেসির নাম জড়িত থাকায় বিষয়টি অনেক বেশি আলোচিত হয়েছে। একই ঘটনা অন্য খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও ঘটে। মেসি বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো থাকলে মানুষ বিষয়গুলো ভিন্নভাবে দেখে।’
বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে পিনেইরো বলেন, ‘এসব ছিল গঠনমূলক আলোচনা। প্রতিটি বিতর্কেই হলুদ কার্ড দেখানো বাধ্যতামূলক নয়। হয়তো মেসি আমার কোনো সিদ্ধান্ত ভুল বুঝেছিল। আমরা কথা বলেছি, একে অপরকে বুঝেছি, এরপর খেলা এগিয়ে নিয়েছি। বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’
ওই ম্যাচের ৭২ মিনিটে সুইজারল্যান্ড সমতায় ফেরার কিছুক্ষণ পর ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে এম্বোলোর ডাইভ ধরা পড়ে এবং তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ চলাকালে মেসি ও পিনেইরোর কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে বলতে শোনা যায়, ‘ভালোভাবে কথা বলুন, অসম্মান করবেন না। আমার সঙ্গে সম্মান রেখে কথা বলুন। আমিও আপনার সঙ্গে সম্মান রেখেই কথা বলেছি।’
তবে পরবর্তীতে ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) জানায়, এম্বোলোকে লাল কার্ড দেখানোর ক্ষেত্রে ভিএআর ব্যবহারে নিয়মগত ভুল হয়েছিল। সংস্থাটির ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ ধারা কেবল অপরাধী খেলোয়াড়কে শনাক্ত করার জন্য প্রযোজ্য; অপরাধের ধরন পরিবর্তন বা নতুন করে মূল্যায়নের জন্য নয়।
যদিও আইএফএবির এমন ব্যাখ্যার পরও পিনেইরো মনে করেন, মাঠে অধিনায়কদের সঙ্গে আলোচনা করে ম্যাচ পরিচালনা করা একজন রেফারির দায়িত্বেরই অংশ। তার ভাষায়, ফুটবলে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে সংলাপ চালিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।