মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মে দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি এই বাণী দেন। এ বছর মে দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে ১৮৮৬ সালের শিকাগোর হে মার্কেটের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষই যেকোনো দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রার প্রধান অবলম্বন। তাদের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি ও অর্থনীতি। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বিশ্বাস করতেন শ্রমিকের দুটি হাতই রাষ্ট্র ও সমাজের উন্নয়নের চাবিকাঠি। তার সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার তৈরি এবং প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ আজ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শ্রমিকদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বাণীতে বলা হয়, অতীতে বিএনপি সরকার শ্রম আইন সংস্কার, মজুরি কমিশন গঠন এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে কাজ করেছে।
বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সরকার কাজ করছে।
প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বাণীতে আরও বলা হয়, গত ঈদুল ফিতরে দেশের সব শ্রমিকের বেতন ও বোনাস সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান এবং মে দিবসের সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।