শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। প্রায় ২১ দিন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আরিফুল।
নিহত আরিফুল ইসলাম আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মাদক, জুয়া, বাল্যবিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। এ আন্দোলনের কমিটিতে শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত রয়েছেন।
এর ধারাবাহিকতায় আরিফুল ইসলাম তার গ্রামের মাদক ও অনলাইন জুয়া চক্রকে এসব কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা সরে না এলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানানোর কথা বলেন।
এর জেরে গত ১ আগস্ট কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আগে থেকে ওত পেতে থাকা রহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আরিফুলের মাথায় কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসা নেন তিনি।
এদিকে গত ৬ আগস্ট আরিফুলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। তবে সদ্যোজাত সন্তানের মুখ দেখে যেতে পারেননি আরিফুল।
এ ঘটনায় আরিফুলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে ২ আগস্ট রহিদুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলা করেন। মামলায় আটজন আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হলেও প্রধান আসামি রহিদুল পলাতক ছিলেন। পরে গত ১২ আগস্ট রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল নয়াটোলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব।
আরিফুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, আরিফুলের মৃত্যুর পর অভিযুক্তদের বাড়িতে এলাকাবাসী ভাঙচুর করছে—এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।