শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান সাক্ষরিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানায় পুলিশ। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে ও সন্ধ্যায় লালমনিরহাট সদর থানার বিডিআর গেট ও কুলাঘাট বাজার এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে এসব চোরাই ইজিবাইক ও যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত সুভাষ চন্দ্র লালমনিরহাট শহরের রায়পাড়া এলাকার নির্মল চন্দ্রের ছেলে।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তঃজেলা চোর চক্র লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজিবাইক চুরি করে আসছিল। গতকাল বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল জানতে পারে, চক্রের সদস্য সুভাষ চন্দ্র রায় একটি চোরাই অটো বিক্রির উদ্দেশ্যে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের শহীদ শাহজাহান কলোনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান করছে। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেখানে অভিযান চালিয়ে সুভাষকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে তিন চাকার একটি নীল রঙের ব্যাটারীচালিত পুরাতন ইজিবাইক এবং চোরাই অটো কেনাবেচায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
ডিবি পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত সুভাষ স্বীকার করেন যে, তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজিবাইক চুরি করে লালমনিরহাট সদরের কুলাঘাট বাজারে অবস্থিত সুকুমার রায়ের শুভ অটো সেন্টার নামক দোকানে বিক্রি করতেন। সুকুমার রায় চোরাই ইজিবাইক কিনে সেগুলোর বিভিন্ন অংশ পরিবর্তন ও রং পরিমার্জন করে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ কুলাঘাট বাজারে সুকুমার রায়ের দোকানে অভিযান চালালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সুকুমার কৌশলে পালিয়ে যান। পরে ওই দোকানে তল্লাশি চালিয়ে চোরাই সন্দেহে বিভিন্ন কোম্পানির আরও ৪টি পুরাতন ইজিবাইক এবং বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়।৷ জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা।
লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রওশন কবীর বলেন, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজিবাইক চুরি করে রঙ ও পার্টস পরিবর্তনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে আসছিল। আমরা চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছি এবং ৫টি চোরাই ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পলাতক আসামিসহ চোর চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে।