ডুবে যাওয়া ট্রলারটি পটুয়াখালীর মহিপুর থেকে গভীর সাগরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গিয়েছিল।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন কালাম (৫৫)এবং শহীদ(৫৭)।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুলাল মাঝির পরিচালনায় ট্রলারটি গভীর সাগরে অবস্থান করছিল। বিকেল চারটার দিকে মহিপুর মৎস্য বন্দরে আসার জন্য রওনা করলে হঠাৎ করেই সাগরে বৈরী আবহাওয়া সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে গিয়ে সাগরে উত্তাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরের বুকে উল্টে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানান, ট্রলারটি যখন উল্টে যায়, তখন কালাম ও শহীদ কেবিনের ভেতরে ছিল। কেবিনে থাকায় মুহূর্তের মধ্যে তারা তলিয়ে যান। আর কোনো উপায় না পেয়ে ট্রলারে থাকা মাঝিসহ বাকি ১২ জন জেলে উত্তাল সাগরের বুকেই ভাসতে থাকেন।
বিকেল থেকে শুরু করে ভোররাত পর্যন্ত—দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘণ্টা সাগরের বুকে মৃত্যুর সাথে লড়াই করেন ১২ জন জেলে। আজ ভোরে ভাগ্যক্রমে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়া অন্য একটি মাছধরা ট্রলারের নজরে আসেন তারা। ট্রলারটি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাদের সাগরে ভাসমান অবস্থায় মাঝিসহ ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে।
উদ্ধারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন:দুলাল মাঝি, কামাল (৩৫), মনির (৩৮), ইমরান (২৫), জামাল (৩৫) এবং শামীম (৩২) সহ মোট ১২ জন।
নিখোঁজ দুই জেলে কালাম ও শহীদকে উদ্ধারের জন্য স্থানীয় জেলেদের কয়েকটি দল সাগরে তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে সাগরের অবস্থা এখনও উত্তাল থাকায় উদ্ধারকাজে তীব্র বেগ পেতে হচ্ছে। এদিকে নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে চলছে চরম উদ্বেগ আর কান্নার রোল। স্বজনদের আকুল আর্তনাদে মহিপুরের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
এই বিষয়ে মহিপুর থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান: সাগরে ট্রলার ডুবি বা জেলে নিখোঁজের বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কোনো লিখিত বা মৌখিক ভাবে জানায়নি। তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। নিখোঁজদের পরিবার বা ট্রলার মালিকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে আইনগত সহায়তাসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জেলেদের দাবি, নিখোঁজ কালাম ও শহীদকে উদ্ধারে কোস্টগার্ড এবং নৌবাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
আবদুল্লাহ মানিক
কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
মোবাইল ০১৭৫৫০২০২২৩