বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান কৃষি সচিব সেলিম খান।
অনুষ্ঠানে বিকেল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
কৃষি সচিব জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৯ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে প্রায় ১১ লাখ কৃষকের তথ্য অনুমোদন করা হয়েছে। কৃষকদের লেনদেন ও সরকারি সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ফেনীর ছয় উপজেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষকের হাতে সরাসরি কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হবে।
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে যেসব সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—নগদ সহায়তা ও সরকারি প্রণোদনা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে দেওয়া, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ ও সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, স্বল্পমূল্যে কৃষিযন্ত্র, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, কৃষি প্রশিক্ষণ, ফসলের রোগবালাই দমনে পরামর্শ, কৃষি বীমা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুবিধা।
কৃষি সচিব আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রায় ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। চলতি বছর কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের ৩৯ হাজার কোটি টাকার তুলনায় বেশি।
এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিএডিসি ও বিএমডিএর মাধ্যমে ৪৭৬ কিলোমিটার খাল খনন এবং বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার মাধ্যমে ২৫ লাখ বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কৃষি সচিব বলেন, কৃষক কার্ড শুধু একটি কার্ড নয়, এটি কৃষকের জন্য রাষ্ট্রীয় সেবা সহজলভ্য করার একটি প্ল্যাটফর্ম। আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন, স্যাটেলাইট, প্রযুক্তিনির্ভর সেচ, উন্নত জাত উদ্ভাবন, কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ও ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল করার কাজ চলছে।
তিনি বলেন, সরকার এমন একটি কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কৃষক শুধু উৎপাদক নন; তিনি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, খাদ্যনিরাপত্তার রক্ষক এবং দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাঈল জবি উল্লাহ, বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।