আজ সোমবার খুলনা মহানগরীর কয়েকটি পাম্পের মালিকেরা এমন অভিযোগ করেছেন।
খুলনায় জ্বালানি তেল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, ইরান যুদ্ধের কারণে গত প্রায় এক মাস ধরে জ্বালানি তেলের সংকট চলছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে জ্বালানি তেল যেন সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। দিনে দিনে এই পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করছে। খুলনার তিন ডিপো থেকে পাম্প মালিকদেরকে নির্দিষ্ট পরিমানে
ডিজেল, পেট্রোল আর অকটেন সরবার করা হচ্ছে। যা পাম্পগুলোতে আসার সাথে সাথে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
খুলনার একাধিক পাম্প মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিদিন তাদেরকে তিন থেকে চার হাজার লিটার বিভিন্ন ধরনের তেল বিপদ থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই তেল সংগ্রহ করতে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে যাচ্ছে পাম্পগুলোর সামনে। ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে মোটরসাইকেল চালকেরা পাম্পগুলো থেকে তেল সংগ্রহ করছেন।
মালিকের অভিযোগ করে বলেন, আমরা অনেক সময় খেয়াল করে দেখেছি একজন মোটরসাইকেল চালক একবার তেল নিয়ে গিয়ে আবারো তার পাম্পে ফিরে এসেছেন। যারা আগে দিনে ১০০ টাকার জ্বালানি নিয়ে দিন পার করতেন তারা এখন পাম্পে এসে টাংকি ভরে তেল নেয়ার চেষ্টা করছেন।
নগরি পাওয়ার হাউজ মোড়ে অবস্থিত মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারের মালিক মাসুদুর রহমান বলেন, যুদ্ধের আগে আমরা যে পরিমাণ তেল পেয়েছি তাই বিক্রি করতে আমাদের দুদিন সময় লেগে যেত, কিন্তু এখন ডিপো থেকে তেল এনে পাম্পের টাংকিতে আনলোড করার দুই এক ঘন্টার মধ্যে সব টেলি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
খুলনা পাম্প মালিক এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ বলছেন, কাঙ্খিত তেল না পেয়ে অনেক গ্রাহক পাম্পের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কি হুমকি ধামকি এমনকি মারপিট করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পাম্পগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করতে বাধ্য হতে হয়েছে। তারা বলেন, নগরের পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল চালকদের পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি। অনেক দূর দূরান্ত থেকে এসব মোটরসাইকেল আসছে তা জ্বালা নিতে।
রাফিক পুলিশ যদি এসব লাইনে এসে একবার এসব মোটরসাইকেল চালকদের কাগজপত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করতো তাহলে হয়তো সংকট কিছুটা নিরসন হত।
নগরীর পাওয়ার হাউস মোড়ের এই পাম্পের তেল নিতে আসা একজন গ্রাহক বলেন, নগরের অদূরে বিভিন্ন জায়গায় এই তেল দ্বিগুণেরও বেশি দামে বিক্রি হতে দেখেছি।