সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা নাহিদ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা আদায় করেন। একই সঙ্গে ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। এ সময় কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানুল্লাহ আল মামুন এবং কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মেডিকেল প্র্যাকটিস ও বেসরকারি ক্লিনিক এবং ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে ওই ক্লিনিকে প্রসবের জন্য ভর্তি শিল্পী খাতুনের মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগাছিয়া গ্রামের ইয়ার আলীর স্ত্রী। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসা ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দাবি, অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগে বাথরুমে গিয়ে শিল্পী খাতুনের প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে তাকে দ্রæত অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হলেও তিনি মারা যান। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নবজাতক শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
এদিকে সোমবার মা হারা নবজাতক শিশুটিকে দেখতে উপজেলার সাতগাছিয়া গ্রামে তার নানা বাড়িতে যান ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ। এ সময় তিনি শিশুটির জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ১০ হাজার টাকা তার নানির হাতে তুলে দেন। পাশাপাশি শিশুটির চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, মেডিকেল প্র্যাকটিস ও বেসরকারি ক্লিনিক এবং ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ক্লিনিকটিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে এবং সিলগালা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নবজাতক শিশুটির খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। শিশুটির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ১০ হাজার টাকা তার নানির হাতে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।