আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে ভোলা শহরের ওয়েষ্টার্নপাড়ায় জামায়াতে ইসলামীর জেলা কার্যালয়ে উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষা শিবির শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে প্রশাসন থেকে শুরু করে কর কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও জুডিশিয়ারি কমিশন থেকে দুর্নীতি না কমালে যে বাজেট হবে সে বাজেটের টাকা দলীয় কর্মীরা ভাগযোগ করে খাবে। দুর্নীতির কোনো হিসাব হবে না, এজন্য আমরা বলেছি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে এ বাজেট জনগণের আশা পূরন করবে না। এটা হয়েছে দলীয় কর্মীদের ভাগ্য পরিবর্তনের লুটপাটের একটা বাজেট। সরকারকে বলবো আমরা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যে খসড়া বাজেট প্রস্তাব করেছি তার আলোকে বাজেটকে সংশোধন করে আগামী ৩০জুন জনবান্ধব বাজেট পাশ করুন। আমাদের আমিরে জামায়াত বলেছেন আমরা সরকারের সকল ভালো কাজে সাহায্য করবো, কিন্তু মন্দ কাজে আমরা বাঁধা দিবো এবং প্রতিবাদ করবো।
জুলাই সনদ নিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারী একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলো। জুলাই সনদের ভিক্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে ৮৪টি ঐক্যমতের ভিত্তিকে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবে সকল দল একমত হয়েছে এবং গণভোটের ৪টি প্রশ্নের সমন্বয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭০ ভাগ লোক গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে তারা মতামত দিয়েছে। এমনকি বিএনপিও সেই হ্যাঁ ভোটের পক্ষেই ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পরে দু:খজনক ভাবে দেখা গেলো বিএনপি সরকার সংসদ গঠনের পর পরই ১৮০ ডিগ্রী ইউটার্ন নিয়ে বললেন- গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ বে-আইনি এবং এগুলো সংবিধানে নাই আমার এগুলো মনি না। এতে বোঝা গেল তাদের অন্তরে জনগণের আকাঙ্খা পূরনের কোনো ইচ্ছা ছিল না, ক্ষমতায় বসে জাতির ওপরে আবার ফ্যাসিবাদের মতো শাসনের ইচ্ছাই তারা লুকিয়ে রেখেছিলেন। যার কারনেই তারা গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে। ফলে রাজনীতি সেই সংকট রয়েই গেল।
তিনি আরো বলেন, ১২ফেব্রুয়ারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভোট দিতে গিয়েছেন, নিশ্চয়ই তিনি হ্যাঁতে ভোট দিয়েছেন। হ্যাঁয়ের পক্ষে তো তিনি ক্যানভাসও করেছেন। হ্যাঁয়ের পক্ষে ভোট দেওয়ার মানে হলো তিনি ওই ৮৪টি সংস্কারকে মেনে নিয়েছেন। এখন ওনি না বলেন কেনো? তাহলে তিনি পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলুক, আমরা বলেছিলাম হ্যাঁ কিন্তু আমার হ্যাঁতে ভোট দেইনি না তে ভোট দিয়েছি, তাতো বলেন না। জনগণের সাথে দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে দ্বিচারিতা করা ও কথা দিয়ে কথা না রাখার কারনেই আজ এই সংকট তৈরী হয়েছে। এ জন্যই আমরা ১১দলীয় জোট জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে জনমত তৈরী করছি।
কর্মশালায় ভোলা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাস্টার মুহাম্মদ জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল অঞ্চলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মুয়াজ্জম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় মজলিশের শূরা সদস্য একে এম ফখরুদ্দিন খাঁন রাজীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত।