শনিবার (৯ মে) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেয়ে বৃষ্টির মরদেহ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের কাছে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন আকন বলেন, ছোট বেলা থেকেই বৃষ্টির উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল অনেক বড় কিছু করার। অত্যন্ত পরিশ্রম করে পড়াশোনা করতেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি ধর্মীয় জ্ঞানেও ছিলেন সমৃদ্ধ। কোরআন-হাদিস সম্পর্কে ভালো জ্ঞান ছিল তার এবং নামাজ-কালামে কখনো অবহেলা করেননি। একপর্যায়ে স্কলারশিপ পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান বৃষ্টি। সেখানে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা ছিল তার। বিশেষ করে গ্রামের অসহায় ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গ্রামের বাড়িতে বৃষ্টির নকশা করা একটি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। পরিবারের আশা ছিল, দেশে ফিরে মেয়েই বাড়িটি উদ্বোধন করবেন। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। তার স্বপ্ন ছিল ‘ড. নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি’ নামে পরিচিত হওয়া। যদিও তিনি একটি সনদ অর্জন করেছেন, সেটি এসেছে মরণোত্তরভাবে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জহির উদ্দিন আকন বলেন, আমি সবার কাছে মেয়ের জন্য দোয়া চাই। একই সঙ্গে হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করি। অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন কুখ্যাত ঘাতক এ কথা বিশ্ববাসী জানে। বাংলাদেশের প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও যেন হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি, মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার বিষয়ে জোরালো অবস্থান নেওয়া হয়, সেই প্রত্যাশা জানাই।
এর আগে, সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তার মা-বাবা, ভাই, মামাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।