মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিকরা হলেন- বাংলা ট্রিবিউনের সোহায়েল আহমেদ, আজকালের খবরের কায়েস মাহমুদ, আমার সংবাদের আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা স্ট্রিমের রজব আল ফাহিম, প্রাইম বাংলাদেশের মোহন খন্দকার।
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার মকবুল হোসেন বলেন, বিকেল ৬টা পর্যন্ত ৭০ জনের বেশি চিকিৎসা নিয়েছেন। এখনো অনেকেই আসছেন চিকিৎসা নিতে।
জানা গেছে, জুলাই অভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ। এসময় ইনকিলাব মঞ্চ ও জকসু প্রতিনিধিরা অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তাদের অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাঁধা দেওয়া হয়। পরে তারা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামের সামনেই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এসময় জকসু নেতা ও ছাত্রদলের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির মধ্যে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উভয়ের সংঘর্ষে আহতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নেন।
পরে মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসারতদের ওপর হামলা করে এবং মেডিকেল সেন্টারে ভাঙচুর চালানো হয়। হামলায় জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও জিএস আব্দুল আলিম আরিফকে মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়র হয়।
বিকেল ৪টায় ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘২০ কোটি টাকার অস্থায়ী হল নির্মাণের টেন্ডার ছাত্রদলের নেতাকে দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রশাসন। আমরা ইউজিসির চেয়ারম্যানের কাছে ২য় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তর, আবাসন নিশ্চিতের দাবি জানাতে চেয়েছি। প্রোগ্রামে প্রবেশ করতে না পেরে আমরা ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলাম। তখন প্রক্টর এসে বলেন, এখানে অবস্থান থেকে না উঠলে জোর করে তোলা হবে। পরিবহন প্রশাসক স্যার এসে বলেন, তোমাদের পিটিয়ে তুলে দেওয়া হবে। আমাদের অসংখ্য জকসু প্রতিনিধিসহ অসংখ্য শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।’
বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনে সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ এসে ক্যাম্পাসে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। প্রশাসন তাদের বারবার নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে আমাদের দিকে তেড়ে আসেন তারা। তাই ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিলে শিবিরকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছি।’
বিকেল সাড়ে ৪টায় উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘আমি অনেক অনুরোধ করে ইউজিসি চেয়ারম্যানকে আমাদের প্রোগ্রামে আসতে রাজি করিয়েছি। তার কাছে আমাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরার প্রত্যাশা রেখেছিলাম। এই অনুষ্ঠান কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে সংগঠিত অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।’
এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।