মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় অন্তত সাতটি সতর্ক সংকেত পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি লেবানন থেকে উত্তরে রকেট উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য ঘটনায় ছয়টি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আইডিএফ বারবার সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য সতর্ক করেছে।
আইডিএফের দাবি, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ‘অভেদ্য’ নয়। তাই যেকোনো মুহূর্তে ঝুঁকি এড়াতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তেল আবিবের কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণ বা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ শনাক্ত করা হয়েছে। এসব স্থানে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে আল জাজিরা ও বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরু করার পর চীন দেশটিতে থাকা নাগরিকদের সরে যেতে আহ্বান জানিয়েছে। চীন মঙ্গলবার তাদের নাগরিকদের ইসরায়েল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করেছে, লেবানন ও গাজায় বেসামরিকদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে তারা ‘কোনো ধরনের সংযম ছাড়াই’ পাল্টা আঘাত চালাবে। তারা অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে ফিলিস্তিন ও লেবাননে বেসামরিকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, যা ‘স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ’। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে উত্তর ইসরায়েল ও গাজার আশপাশের এলাকায় ‘ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা’ চালানো হবে এবং কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকবে না।
এদিকে, ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মোহসেন রাজাই যুক্তরাষ্ট্রকেও সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং ইরানের অবকাঠামোতে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে মার্কিন নৌযানও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।