ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে তার পারমাণবিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে এবং ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে। তবে তেহরান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। মস্কো বারবার এই উপাদান সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছে। ইরান এতে আংশিক আগ্রহ দেখালেও, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
শনিবার প্রকাশিত রসাটমের কর্পোরেট সংবাদপত্র স্ট্রানা রসাটম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লিখাচেভ বলেন, কোম্পানিটি এই বিষয়ে সহায়তা দিতে প্রস্তুত এবং জোর দিয়ে বলেন, শুধু প্রযুক্তিগত জটিলতা নয়—বিশ্বাসই যেকোনো চুক্তির মূল বিষয়, আর রাশিয়া উভয়ই দিতে পারে।
তিনি বলেন, “ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক সহযোগিতার অভিজ্ঞতা কেবল রাশিয়ারই আছে। ২০১৫ সালে ইরানের অনুরোধে আমরা ইতোমধ্যেই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিয়েছিলাম। আমরা আজও এই বিষয়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত।”
তিনি আরও বলেন, রসাটম ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাতা ও অংশীদার—যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
পারমাণবিক মজুত ও আন্তর্জাতিক অবস্থান
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) অনুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজিরও বেশি ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা অস্ত্র-গ্রেডের মাত্রার খুব কাছাকাছি।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানকে তার ইউরেনিয়াম “যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে” হবে, ২০ বছরের জন্য সমৃদ্ধকরণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং নাতাঞ্জ ও ফোর্দোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বন্ধ করতে হবে।
তবে ইরান এসব প্রস্তাবকে “অতিরিক্ত কঠোর” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। পরিবর্তে তারা বলেছে, তারা আইএইএ তত্ত্বাবধানে ইউরেনিয়াম কম ঘনত্বে নামাতে প্রস্তুত এবং প্রায় পাঁচ বছরের সীমিত স্থগিতাদেশ মেনে নিতে পারে।
ইরান আরও জানিয়েছে, তারা স্থাপনা ভাঙার বিরোধী এবং এর পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যেন চুক্তি থেকে বেরিয়ে না যায়—এমন নিশ্চয়তা চায়। এছাড়া তারা সম্ভাব্য চুক্তিকে আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির সঙ্গেও যুক্ত করতে চায়।
ইরানের কঠোর অবস্থান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইউরেনিয়াম মজুত যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করা হবে না—এটি “ইরানের ভূমির মতোই পবিত্র”।
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের “অতিরিক্ত কঠোর দাবির” কারণে তেহরান নতুন আলোচনায় আগ্রহী নয়।
তিনি বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলতে পারি—কোনো সমৃদ্ধ উপাদান যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে না। এটি আলোচনার বিষয়ই নয়। আমরা উদ্বেগগুলো মোকাবিলা করতে প্রস্তুত, কিন্তু অগ্রহণযোগ্য শর্ত আমরা মেনে নেব না।”