বর্তমানে ইবোগেইনসহ অধিকাংশ সাইকেডেলিক পদার্থ যুক্তরাষ্ট্রে ‘শিডিউল-১’ তালিকাভুক্ত, অর্থাৎ এগুলোকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে নতুন সিদ্ধান্তের ফলে চিকিৎসা গবেষণার ক্ষেত্রে এসব ওষুধের ওপর বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল হতে পারে।
নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের সময় ট্রাম্প বলেন, গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্য এটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে তীব্র বিষণ্নতা ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) চিকিৎসায় এসব ওষুধের কার্যকারিতা যাচাইয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে United States Department of Health and Human Services এবং Food and Drug Administration (এফডিএ) কাজ শুরু করেছে। তারা তিনটি সাইকেডেলিক ওষুধের জন্য দ্রুত অনুমোদনের বিশেষ ভাউচার চালুর পরিকল্পনা করছে, যা অনুমোদনের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে।
একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো ইবোগেইনের মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পথও তৈরি করা হচ্ছে। পশ্চিম আফ্রিকার একটি উদ্ভিদ থেকে তৈরি এই পদার্থটি মাদকাসক্তি ও পিটিএসডি চিকিৎসায় সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচিত হলেও এর নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ইবোগেইন হৃদযন্ত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর সঙ্গে বহু মৃত্যুর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ফলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল প্রমাণ ছাড়া দ্রুত অনুমোদন রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তবে সাইকেডেলিক গবেষণায় যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও যুদ্ধফেরত ভেটেরান সংগঠন ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, কঠিন মানসিক রোগের চিকিৎসায় এটি নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভাবনাময় হলেও এসব ওষুধের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে কঠোর গবেষণা ও যাচাই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা জরুরি।