আগামী রোববার দিবাগত রাত ২টায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে এশিয়ান জায়ান্টরা। যার তিনদিন আগেই টুর্নামেন্টটিতে খেলার আশা ভেস্তে গেছে লিভারপুল মিডফিল্ডার ওয়াতারুর। মূলত পায়ের ইনজুরি থেকে নির্ধারিত প্রত্যাশিত সময়ে সেরে উঠতে পারেননি তিনি। যে কারণে হতাশা নিয়ে ৩৩ বছর বয়সী এই জাপানিজ তারকা বুটজোড়া তুলে রাখার সিদ্ধান্তই নিয়ে নিলেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে জাপান কিছুটা চ্যালেঞ্জিং গ্রুপেই পড়েছে, ‘এফ’ গ্রুপে নেদারল্যান্ডস ছাড়াও তাদের প্রতিপক্ষ সুইডেন ও তিউনিসিয়া। জাপানের অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো গত ফেব্রুয়ারিতে লিভারপুলের হয়ে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার সময় চোট পেয়ে মৌসুমের বাকি অংশ থেকে ছিটকে যান। এরপর ৩১ মে টোকিওতে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে ফেরেন তিনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে অস্বস্তির কারণে তার আর খেলা হয়নি।
বিশ্বকাপে খেলতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে অবসরের ঘোষণায় ওয়াতারু জানিয়েছেন, ‘ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই এমন সময় আসবে, যখন জাপান বিশ্বকাপ জিতবে। চলুন সেই বিশ্বাস রেখে দলকে সমর্থন দিয়ে যাই। চলুন একসঙ্গে জাপানকে সেই শক্তি দিই, যা উত্তর আমেরিকার এই টুর্নামেন্টে স্মরণীয় মুহূর্ত গড়তে সহায়তা দেয়। আমি জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন থেকে কেবলই একজন ভক্ত হয়ে জাপানকে সমর্থন দিয়ে যাব।’
২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের জাপানের স্কোয়াডে ছিলেন ওয়াতারু। এমনকি কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারের স্বাদ দেওয়া ‘সামুরাই ব্লু’দের ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই তারকা মিডফিল্ডার। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর জাপানের হয়ে ৭৩ ম্যাচ খেলে ওয়াতারু ৪টি গোল করেছেন।
পায়ের চোট থাকলেও, বিশ্বকাপের এই আসরে খেলার আশা ছিল তার। সে কারণে গত সোমবার ন্যাশভিলেতে জাপান জাতীয় দলের বেস ক্যাম্পেও যোগ দিয়েছিলেন। যদিও পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি। ওয়াতারু বলছেন, ‘ইনজুরিতে পড়ার পর আমার সর্বোচ্চ শক্তি বিনিয়োগ করেছি, তাই আমার কোনো আক্ষেপ নেই। তবে অবশ্যই আমি বিশ্বকাপ খেলতে না পারায় হতাশ। তারচেয়েও বড় কথা আমি কাতার বিশ্বকাপে এই দলের নেতৃত্ব দিতে পেরে গর্বিত এবং দলগতভাবে সেই অনুভূতি তৈরি করতে পেরেছি যে বিশ্বকাপ জেতাই আমাদের লক্ষ্য।’