রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা তাসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবনার একটি শর্ত হিসেবে এই সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ রয়েছে।
পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালির এক পাশে ইরান এবং অন্য পাশে ওমান। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর ইরান এই প্রণালিতে কার্যত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়, যার প্রভাব এখনো অব্যাহত।
হরমুজ প্রণালি শুধু জ্বালানি তেল নয়, সার, পেট্রোকেমিক্যালসহ বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ রুট। চলমান উত্তেজনার কারণে এসব পণ্যের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
এর মধ্যে গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসবেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা এবং ইরানের ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবেই ইরান জানিয়েছে—প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচল করতে পারবে এবং সেগুলোর চলাচল ইরানের অনুমোদন ও নির্দিষ্ট প্রোটোকলের আওতায় নিয়ন্ত্রিত হবে।
এ ছাড়া জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ করবে ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। উপসাগরীয় দেশগুলোকে এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাসকে জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখন থেকে কঠোরভাবে ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে এবং নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
সূত্র: তাস