রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ আয়োজিত এক শোক সমাবেশ ও প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দ্রুতই জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে।
বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং বাংলাদেশকে ইরান ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বিবেচনা করে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির আলোচনার উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ওমানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেও ধন্যবাদ জানানো হয়।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, সম্মানজনক শর্তে আলোচনা হলে তবেই ইরান তাতে অংশ নেবে। অন্যথায় নয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত যুদ্ধবিরতির সময় পর্যন্ত ইরান হামলা থেকে বিরত থাকবে, তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি তা লঙ্ঘন করে, তাহলে ইরানও পাল্টা জবাব দিতে বাধ্য হবে।
ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় ইরান নিশ্চিত যে যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃত অর্থে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী নয়। তাদের মূল লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা রোধ করা।
রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা। তবে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে এবং ইরানের জনগণ সরকারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে ইরানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচির জন্য বিপ্লবী ছাত্র পরিষদকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে হাসপাতাল, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার নিন্দা জানিয়ে এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান।
প্রতিবাদী এই কর্মসূচিতে ইরানি শিশুদের প্রতীকী কফিন, রক্তাক্ত স্কুলব্যাগ ও ছবি প্রদর্শনের পাশাপাশি যুদ্ধবিরোধী স্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান।