ভারতের শীর্ষ বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ সৌরভ মুখার্জি এনডিটিভিকে জানান, চীন ইরানের সঙ্গে মিত্রতা করে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে পারে। তিনি এটিকে ‘টেলরিক্যাল ক্যু’ বা কৌশলগত অভ্যুত্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, চীনের লক্ষ্য হরমুজের তেলের বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা, যা কোনো স্বল্পমেয়াদী উত্তেজনা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত লড়াই।
কার্নেগির বিশেষজ্ঞ আবদুল্লাহ বাবদ মনে করেন, বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক হিসেবে চীনের হরমুজে প্রবেশ ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি প্রবাহ নিশ্চিত করা এখন জাতীয় স্বার্থ। ইতোমধ্যে চীন ইরান থেকে বিপুল তেল আমদানি করছে এবং ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত ২৫ বছরের কৌশলগত চুক্তি সম্পর্ক আরও গভীর করেছে।
হরমুজ প্রণালির এই টানাটানি ভারতের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। সৌরভ মুখার্জি বলেন, তেলের দাম বেড়ে গেলে ভারতের আমদানিব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, রূপির মান দুর্বল হবে, সুদের হার বাড়বে এবং বিনিয়োগের বাজারে ধস নামতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ কড়া হুমকি দিয়েছেন। পাল্টা জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, ট্রাম্পের হঠকারী সিদ্ধান্ত মার্কিন পরিবারগুলোকে বিপদে ফেলবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে, আর বেইজিং সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও পাকিস্তানে অবকাঠামো বিনিয়োগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিষ্ঠা করছে। ভারতের মতো তেল-নির্ভর দেশগুলোর জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।