মার্কিন প্রশাসনের আশঙ্কা, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ অচল হয়ে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে প্রায় এক হাজার তেলের ট্যাংকার হরমুজ প্রণালীতে আটকা পড়েছে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্পের আহ্বান
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রিটেনকে দ্রুত ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো উচিত। তার দাবি, ইরান বর্তমানে বড় ধরনের চাপে রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীকে আর হুমকির মুখে রাখা উচিত নয়।
এদিকে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, উল্লিখিত দেশগুলোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশেষ করে চীন এই সংকট নিরসনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দেশই প্রকাশ্যে সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
আলোচনার পথে সমাধানের ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ বলেছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সবার যৌথ দায়িত্ব। উত্তেজনা কমাতে চীন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াবে।
অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে, বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই হরমুজ প্রণালী যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ছাড়া অন্য দেশের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, অনেক দেশই তাদের জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইরানের সেনাবাহিনী।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পর ভারতের দুটি গ্যাসবাহী ট্যাংকার নিরাপদে ওই পথ অতিক্রম করতে পেরেছে। তার মতে, আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান সম্ভব।
তেলের বাজারে অস্থিরতা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ১০টি তেলের ট্যাংকারে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সম্ভাব্য কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। কারণ, ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় চীনের তেলবাহী জাহাজগুলো তুলনামূলকভাবে বাধাহীনভাবে চলাচল করছে।
ইরানের পাল্টা চ্যালেঞ্জ
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাইনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প যদি মনে করেন ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে, তাহলে সাহস থাকলে যেন তিনি নিজের জাহাজ পারস্য উপসাগরে পাঠান।
তার দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ইরান প্রায় ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং দেশটির অস্ত্রভাণ্ডার এখনও অক্ষত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংকট আরও তীব্র হতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।