হামের সঙ্গে লড়াই শেষে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া ছোট্ট তাইবা শুক্রবার (৫ জুন) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে মারা গেছে।
তাইবার বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার আমলা চৌধুরীপাড়া গ্রামে। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল সে। তার মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত মাসের শুরুতে জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হলে তাইবাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে চিকিৎসকেরা হাম শনাক্ত করেন। প্রায় ১২ দিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিল সে। পরিবারের সবাই ভেবেছিলেন বিপদ কেটে গেছে।
কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। গত ২৭ মে আবার জ্বর ও কাশি শুরু হলে তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ভর্তি করা হয় কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার হাসপাতালে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৯ মে রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রামেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরদিনই অবস্থার অবনতি হলে তাইবাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। গত ৩১ মে রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ে সে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।
চিকিৎসকদের মতে, চলতি মৌসুমে রামেক হাসপাতালে শনাক্ত হওয়া প্রথম ডেঙ্গু রোগী ছিল সে।
ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর আইসিইউতে নিবিড় চিকিৎসা চলতে থাকে। কয়েক দিন পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে গত বুধবার তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। এতে পরিবারে আবারও আশার আলো দেখা দেয়; কিন্তু সেই আশাও বেশিক্ষণ টেকেনি। ওয়ার্ডে নেওয়ার পর আবার জ্বর ও বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়।
দ্রুত অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার পুনরায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর আর তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার সকাল ১০টা ৫১ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শিশুটির।
মেয়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা জাহিদুল ইসলাম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার একটাই মেয়ে ছিল। ওকে বাঁচানোর জন্য যা যা করা দরকার ছিল, সব করেছি। ভালো চিকিৎসার আশায় কুষ্টিয়া থেকে রাজশাহীতে এনেছিলাম; কিন্তু আমার মেয়েকে আর বাঁচাতে পারলাম না।
রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার পর শিশুটির শ্বেত রক্তকণিকার মাত্রা অনেক বেশি এবং প্লাটিলেট কম পাওয়া যায়। পরে ডেঙ্গু পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। সে অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় ফল নেগেটিভও আসে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় এবং অক্সিজেনের প্রয়োজন না থাকায় তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখানে যাওয়ার পর কেন আবার অবস্থার অবনতি হলো, তা স্পষ্ট নয়। পরে পুনরায় আইসিইউতে এনে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, চলতি মৌসুমে হাসপাতালের প্রথম ডেঙ্গু রোগী ছিল তাইবা। বর্তমানে দু-একজন করে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে আসছেন। রোগীর সংখ্যা বাড়লে তাদের জন্য আলাদা কর্নার চালু করা হবে। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।