মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৩টায় ফরিদপুর টিটিসিতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে “বাংলাদেশ ভোকেশনাল ম্যানপাওয়ার ট্রেনিং ফর ট্রান্সমিশন লাইন কনস্ট্রাকশন প্রজেক্ট (২০২৫-২০২৯)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই ট্রেনিং সেন্টারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (KOICA) ও হানবেক কোম্পানি লিমিটেডের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি দেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কর্মী তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তা এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। এছাড়া বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন- কিম জি হুন — কান্ট্রি ডিরেক্টর (রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ), কোইকা বাংলাদেশ অফিস। এ. কে. এম. রেজাউর রহমান — উপসচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মো. নজরুল ইসলাম — পুলিশ সুপার, ফরিদপুর জেলা। মো. শওরভ হোসেন — অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), ফরিদপুর। ইয়াং হিউন উ — ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর, কোইকা বাংলাদেশ অফিস। ইউন উ রাম — প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, হানবেক কোম্পানি লিমিটেড। আহন ইউন সিয়ং — প্রোগ্রাম ম্যানেজার, কোইকা বাংলাদেশ অফিস। ফেরদৌসী শারমিন — প্রোগ্রাম অফিসার, কোইকা বাংলাদেশ অফিস এবং লি মিন হো — কান্ট্রি ডিরেক্টর, হানবেক কোম্পানি লিমিটেড।
প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান — অধ্যক্ষ, ফরিদপুর টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে বিদ্যুৎ অবকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে দক্ষ কারিগরি জনবলের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে, যা তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে এবং দেশের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে অবদান রাখবে।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এ ধরনের প্রকল্প দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা ট্রেনিং সেন্টারের বিভিন্ন সুবিধা পরিদর্শন করেন এবং প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি শুভকামনা জানান। সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৫ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত চলমান এই প্রকল্প দেশের কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।