প্রেস কনফারেন্সে অধিকাংশ প্রশ্নই কোচ দেশমকে ঘিরেই। ২০১৮-২৬ তিন বিশ্বকাপেই ফ্রান্সকে কোচিং করাচ্ছেন দেশম। একবার চ্যাম্পিয়ন, একবার রানার্স আপ। আর এবার সেমিফাইনালে। এমন ধারাবাহিক সাফল্যের রহস্য কী?
দেশম মৃদু হেসে বলেন, ‘আমার কোনো রহস্য নেই। এক ঝাঁক অতি ভালো মানের ফুটবলার রয়েছে। তারাই মূলত এই সাফল্যের মূল উপাদান। আমি যেহেতু কোচ, দলের ভালো পারফরম্যান্সে আমার কিছুটা অবদান থাকতে পারে (হাসি)। তবে অবশ্যই মূল কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের।’
গোলের খেলা ফুটবল। সেই গোল নিয়মিত করে যাচ্ছেন ফ্রান্সের হয়ে কিলিয়ান এমবাপে। ২০১৮ বিশ্বকাপে ছিলেন তরুণ ফুটবলার। এই বিশ্বকাপে অত্যন্ত পরিণত। এমবাপ্পের হাতেই ফ্রান্সের আর্মব্যান্ড। অধিনায়কের প্রশংসা করে কোচ বলেন, ‘সে আমাদের দলের একজন রোল মডেল। অন এন্ড অফ দ্য ফিল্ড দুই ক্ষেত্রেই সে অসাধারণ।’
এমবাপ্পে, দেম্বেলে, ওলিসে এত বড় মাপের ফরোয়ার্ড ফ্রান্সের। এর পাশাপাশি ডিফেন্ডারদেরও প্রশংসা করেছেন কোচ দেশম, ‘নক আউট পর্বে আমরা কোনো ম্যাচে গোল হজম করিনি। এজন্য ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষকের কৃত্তিত্ব অনেক।’
মরক্কো গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলেছিল। এবার খেললো কোয়ার্টার ফাইনালে। দুবারই ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায়। এই বিশ্বকাপে মরক্কো যেভাবে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল। আজ ফ্রান্সের কোয়ালিটি ও কৌশলের কাছে ধরাশয়ী হয়েছে। এরপরও মরক্কোর প্রশংসা করে ফ্রান্স কোচ দেশম বলেন, ‘তারা যথেষ্ট ভালো দল। টানা দুই বিশ্বকাপে এই পর্যায়ে আসা মোটেও ছোট বিষয় নয়। তাদের অনেক তরুণ ভালো খেলোয়াড় রয়েছে। মরক্কো সামনে আরও ভালো করবে। আমরা আজ মরক্কোর বিপক্ষে অনেক সতর্ক ছিলাম।’
১৯৯৮ সালে ফ্রান্স প্রথম বিশ্বকাপ জেতে। সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন দিদিয়ের দেশম। ২০ বছর পর ২০১৮ সালে রাশিয়ায় ফ্রান্স আবারও চ্যাম্পিয়ন হয়। পরের বিশ্বকাপে হয় রানারআপ। দুবারই কোচ হিসেবে ছিলেন দেশম। এবারও শিরোপা জয়ের পথে হাটছে ফ্রান্স। তিন বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে দেশম বলেন, ‘খেলোয়াড় হিসেবে এক ধরনের অভিজ্ঞতা আর কোচ হিসেবে অন্যরকম। কোচ হিসেবে প্রতি বিশ্বকাপেই ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে। আমরা এখন সেমিফাইনালে, আপাতত সেটা নিয়েই ভাবছি।’