বর্তমানে খাদিজা ভর্তি আছে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে। এর আগে তাকে মাতুয়াইলের শিশু-মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়েছিল। এপ্রিলের শুরু থেকেই দুই শিশুকে নিয়ে শুরু হয় পরিবারের কঠিন লড়াই।
বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালের শিশুদের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ফাতেমার। পরে কিছুটা সুস্থ হওয়ায় খাদিজাকে বাসায় নেওয়া হয়েছিল। তবে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় আবারও জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
খাদিজার মা সায়মা বেগম বলেন, ‘আমার একটা বাবু মারা গেছে। ডাক্তারেরা বলছেন, আর ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। ভালো চিকিৎসা লাগবে।’
তিনি জানান, খাদিজার জ্বর বারবার উঠছে। কখনো শরীর ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে, আবার শরীর নীলচে হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকেরা শিশুটিকে অল্প অল্প করে বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। বিভিন্ন পরীক্ষা–নিরীক্ষাও চলছে।
বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালের প্রধান পরামর্শক অধ্যাপক মো. মজিবুর রহমান জানান, হাম–পরবর্তী নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছে খাদিজা। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং যথাযথ চিকিৎসা পেলে শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন তিনি।
এপ্রিলের শুরুতে জ্বর, ঠান্ডা ও কাশি নিয়ে প্রথমে দুই শিশুকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুরুতে খাদিজার অবস্থাই বেশি খারাপ ছিল। পরে ফাতেমার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সে মারা যায়। এ সময় পরিবারটি রাজধানীর একাধিক হাসপাতালে ঘুরেছে। কোথাও শয্যা ছিল না, কোথাও অক্সিজেনের সংকট, আবার কোথাও নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র খালি ছিল না।
এর মধ্যেই পরিবারটির আর্থিক সংকটও প্রকট হয়ে উঠেছে। ফাতেমার চিকিৎসাতেই এক লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে বলে জানান সায়মা বেগম। এখন খাদিজার চিকিৎসা, অ্যাম্বুলেন্সভাড়া ও বিভিন্ন পরীক্ষার খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারকে।
খাদিজার বাবা মোজাম্মেল হক স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে তিনি নিয়মিত ইমামতি করতে পারছেন না। এতে পরিবারটির জীবিকাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে জানা গেছে, হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৩৭৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে ৫৬ হাজারের বেশি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং ৭ হাজার ৫২৪ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।