শনিবার (১৬ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
তাজরিন ফ্যাশনসের আহত শ্রমিক জরিনা বেগমের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমীন এবং আইন ও দরকষাকষি বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু, রানা প্লাজার আহত শ্রমিক– নিলুফা ইয়াসমিন, শিলা বেগম, নিলুফা বেগম, তাজরীন গার্মেন্টসের আহত শ্রমিক মোহাম্মদ আকাশ প্রমুখ।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশনসে আহত বহু শ্রমিক এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অনেকেই ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ট্রাস্ট ফান্ড ও বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।
এতে বলা হয়, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশিন্তপুরে তোবা গ্রুপের তাজরীন ফ্যাশনস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১৪ জন শ্রমিক নিহত হন এবং বহু শ্রমিক গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করেন। এর মাত্র পাঁচ মাস পর, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে অবস্থিত রানা প্লাজা ভবন ধসে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৮ জনের বেশি শ্রমিক নিহত হন এবং আড়াই হাজারের বেশি শ্রমিক আহত হন।
বক্তারা বলেন, সেদিন ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ার পরও শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল, যা ইতিহাসে পরিকল্পিত শ্রমিক হত্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ আসামি জামিনে মুক্ত থাকায় বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা।
এতে সাত দফা দাবি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পুনর্মূল্যায়ন করে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করে তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। দায়ীদের দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। অনুদানের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করতে হবে।
এছাড়া দায়ী মালিকদের সম্পদ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা, শহীদ শ্রমিকদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, ২৪ এপ্রিলকে শ্রমিক হত্যা দিবস ঘোষণা এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর নৈতিক ও আইনি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।