গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে অনুষ্ঠিত ৪র্থ ‘ইফেক্টিভ ডায়ালগ’ সম্মেলনে ‘ডিপ্লোমেসি ফর সাসটেইনেবিলিটি’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়েছেন গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এথেন্সের স্টেলিওস ফাউন্ডেশন কনফারেন্স হলে ‘ডিসরাপশন অর ডেস্ট্রাকশন?’ প্রতিপাদ্যে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। টিম সিমপ্র্যাক্সিস এবং হোয়েন (ইকুইটি এমপাওয়ারমেন্ট চেঞ্জ) যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করে।
প্যানেল আলোচনায় অস্ট্রেলিয়া, ফিনল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও বাংলাদেশের চার নারী রাষ্ট্রদূত অংশ নেন। এতে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত অ্যালিসন ডানকান, ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত লীনা পিলভানাইনেন, অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রদূত গের্ডা ভোগল এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা বক্তব্য দেন।
সম্মেলনে কূটনীতিক, বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের নেতারা বৈশ্বিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অন্তর্ভুক্তি এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন পরিবর্তন মোকাবিলায় রাজনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত ও অর্থবহ আলোচনা করেন।
প্যানেল আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের মতো আন্তঃসম্পর্কিত সংকট কীভাবে বৈশ্বিক অগ্রাধিকারকে পরিবর্তন করছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। দেশভিত্তিক প্রতিবেদন নয়, বরং রাষ্ট্রদূতদের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে এসব সংকট মোকাবিলায় কূটনীতির ভূমিকা এবং ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন মেটাতে বিভিন্ন দেশের সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা বলেন, ১৯৭১ সালে মর্যাদা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম। তার নিজের জীবনও টিকে থাকা ও মর্যাদার জন্য সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। ক্যানবেরা, কলকাতা, অটোয়া, ব্রাসিলিয়া ও বান্দার সেরি বেগাওয়ানে তার দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আধুনিক রাষ্ট্রদূতদের নিজ নিজ রাজধানী ও স্বাগতিক দেশের মধ্যে আন্তঃসংযুক্ত বৈশ্বিক সংকটের ব্যাখ্যাকারী হিসেবে কাজ করতে হবে।
টেকসই উন্নয়নের বৈশ্বিক ধারণার পার্থক্য তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, ধনী গণতান্ত্রিক দেশগুলো যেখানে কার্বন নিঃসরণ কমানোর গতি ও জ্বালানি রূপান্তরের অর্থায়নকে গুরুত্ব দেয়, সেখানে বাংলাদেশের মতো গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য টেকসই উন্নয়ন অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত টিকে থাকা, উপকূল সুরক্ষা, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি এবং সহনশীল কৃষির সঙ্গে। ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়গুলো যেন পিছিয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।